গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

মেনু

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও নীতির পরীক্ষা

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১৬:০৫ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৭:২১ এএম ২০২৬
জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও নীতির পরীক্ষা
ছবি

ফাইল ছবি

দেশজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের অভিঘাতে বিদ্যুৎ খাতে যে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, তা এখন আর কেবল একটি খাতভিত্তিক সমস্যা নয়; এটি অর্থনীতি, শিক্ষা, কৃষি ও সামগ্রিক জনজীবনের ওপর বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘ দেড় যুগ পর ক্ষমতায় ফিরে কোনো সরকার যদি সূচনাতেই এমন মৌলিক সংকটে পড়তে থাকে, তবে তা জনআস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে-এ বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই। উল্লেখ  করা দরকার-বিএনপি সরকারের বিগত আমলে প্রধান যে সংকটগুলো জনরোষ তৈরি করেছিল, তার মধ্যে বিদ্যুৎ ছিল অন্যতম।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, জ্বালানি সংকটের কারণে ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে এবং আরো ৩৫টি কেন্দ্র আংশিক উৎপাদন কমিয়ে চলছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট, যার ফলে এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করা হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ১৪৮২ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছেছে।

এই সংকটের সবচেয়ে বড় বোঝা বইতে হচ্ছে গ্রামাঞ্চলকে। ঢাকার তুলনায় বাইরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেক বেশি-কোথাও দিনে ৬ থেকে ৮ বার, কোথাও ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, আবার অনেক এলাকায় ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। চট্টগ্রাম, বরিশাল, রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত। কৃষিকাজ, ক্ষুদ্র শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য-সবখানেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এই বাস্তবতায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো শিক্ষাখাতের ওপর এর প্রভাব। তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যেই শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, যেখানে অংশ নিয়েছে ১৮ লাখ ৩২ হাজারের মতো শিক্ষার্থী। অনেক এলাকায় সন্ধ্যার পর ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় শিক্ষার্থীদের মোমবাতি বা হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে। এতে শুধু প্রস্তুতিই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং তাদের মানসিক চাপও বেড়ে যাচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সংকটের পেছনে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, আমদানি নির্ভরতা এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় শুধু মূল্য সমন্বয় নয়, বরং কার্যকর সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।

নীতিনির্ধারণের দিক থেকে এখন প্রয়োজন জরুরি ও জনমুখী পদক্ষেপ। প্রথমত, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। দ্বিতীয়ত, লোডশেডিং ব্যবস্থাপনাকে আরো স্বচ্ছ ও পূর্বঘোষিত করতে হবে, যাতে মানুষ অন্তত প্রস্তুতি নিতে পারে। তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে জোর দিতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে অবহেলা বা বিলম্বের কোনো সুযোগ নেই। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পানি ও নিত্যপণ্যের মতো মৌলিক সেবাগুলোতে ব্যর্থতা দ্রুতই জনঅসন্তোষে রূপ নিতে পারে। তাই এই সংকটকে কেবল সাময়িক সমস্যা হিসেবে না দেখে, একটি সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করা জরুরি।

এখনই কার্যকর, সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এই সংকট দীর্ঘায়িত হয়ে বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে-যার দায় এড়ানো কারো পক্ষেই সম্ভব হবে না।
সানা/আপ্র/২৩/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

নির্দেশনায় নয়, আস্থায় গড়তে হবে শিক্ষার ভবিষ্যৎ
২২ এপ্রিল ২০২৬

নির্দেশনায় নয়, আস্থায় গড়তে হবে শিক্ষার ভবিষ্যৎ

সংকটের সিঁড়ি পেরিয়ে এসএসসি পরীক্ষা

দ্রুত পদক্ষেপ নয়, টেকসই ফলই হোক মূল লক্ষ্য
২০ এপ্রিল ২০২৬

দ্রুত পদক্ষেপ নয়, টেকসই ফলই হোক মূল লক্ষ্য

সরকারের দুই মাস

কোথায় দাঁড়িয়ে দেশের স্বাস্থ্য প্রশাসন?
১৯ এপ্রিল ২০২৬

কোথায় দাঁড়িয়ে দেশের স্বাস্থ্য প্রশাসন?

সেবা দিতে গিয়ে জীবন বিপন্ন

রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের কঠিন পরীক্ষা
১৮ এপ্রিল ২০২৬

রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের কঠিন পরীক্ষা

কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্যে রক্তাক্ত মোহাম্মদপুর

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই