গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও নীতির পরীক্ষা

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১৬:০৫ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০৭:৫৪ এএম ২০২৬
জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও নীতির পরীক্ষা
ছবি

ফাইল ছবি

দেশজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের অভিঘাতে বিদ্যুৎ খাতে যে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, তা এখন আর কেবল একটি খাতভিত্তিক সমস্যা নয়; এটি অর্থনীতি, শিক্ষা, কৃষি ও সামগ্রিক জনজীবনের ওপর বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘ দেড় যুগ পর ক্ষমতায় ফিরে কোনো সরকার যদি সূচনাতেই এমন মৌলিক সংকটে পড়তে থাকে, তবে তা জনআস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে-এ বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই। উল্লেখ  করা দরকার-বিএনপি সরকারের বিগত আমলে প্রধান যে সংকটগুলো জনরোষ তৈরি করেছিল, তার মধ্যে বিদ্যুৎ ছিল অন্যতম।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, জ্বালানি সংকটের কারণে ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে এবং আরো ৩৫টি কেন্দ্র আংশিক উৎপাদন কমিয়ে চলছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট, যার ফলে এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করা হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ১৪৮২ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছেছে।

এই সংকটের সবচেয়ে বড় বোঝা বইতে হচ্ছে গ্রামাঞ্চলকে। ঢাকার তুলনায় বাইরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেক বেশি-কোথাও দিনে ৬ থেকে ৮ বার, কোথাও ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, আবার অনেক এলাকায় ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। চট্টগ্রাম, বরিশাল, রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত। কৃষিকাজ, ক্ষুদ্র শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য-সবখানেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এই বাস্তবতায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো শিক্ষাখাতের ওপর এর প্রভাব। তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যেই শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, যেখানে অংশ নিয়েছে ১৮ লাখ ৩২ হাজারের মতো শিক্ষার্থী। অনেক এলাকায় সন্ধ্যার পর ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় শিক্ষার্থীদের মোমবাতি বা হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে। এতে শুধু প্রস্তুতিই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং তাদের মানসিক চাপও বেড়ে যাচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সংকটের পেছনে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, আমদানি নির্ভরতা এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় শুধু মূল্য সমন্বয় নয়, বরং কার্যকর সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।

নীতিনির্ধারণের দিক থেকে এখন প্রয়োজন জরুরি ও জনমুখী পদক্ষেপ। প্রথমত, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। দ্বিতীয়ত, লোডশেডিং ব্যবস্থাপনাকে আরো স্বচ্ছ ও পূর্বঘোষিত করতে হবে, যাতে মানুষ অন্তত প্রস্তুতি নিতে পারে। তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে জোর দিতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে অবহেলা বা বিলম্বের কোনো সুযোগ নেই। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পানি ও নিত্যপণ্যের মতো মৌলিক সেবাগুলোতে ব্যর্থতা দ্রুতই জনঅসন্তোষে রূপ নিতে পারে। তাই এই সংকটকে কেবল সাময়িক সমস্যা হিসেবে না দেখে, একটি সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করা জরুরি।

এখনই কার্যকর, সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এই সংকট দীর্ঘায়িত হয়ে বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে-যার দায় এড়ানো কারো পক্ষেই সম্ভব হবে না।
সানা/আপ্র/২৩/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

সংঘাতের রাজনীতি নয়, সমঝোতার পথেই এগিয়ে যাক বাংলাদেশ
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংঘাতের রাজনীতি নয়, সমঝোতার পথেই এগিয়ে যাক বাংলাদেশ

বাংলাদেশের রাজনীতি আবারো এমন একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার চেয়ে পরস্পরকে ব...

আইনের ফাঁক বন্ধ না হলে অপরাধের পুনরাবৃত্তি থামবে না
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইনের ফাঁক বন্ধ না হলে অপরাধের পুনরাবৃত্তি থামবে না

একজন অপরাধীকে গ্রেফতার করা পুলিশের সাফল্য হতে পারে; কিন্তু একই অপরাধী যদি কিছুদিন পর আবারো একই অপরাধ...

বারবার বলতে হবে না ‘সংখ্যালঘু নন’, রাষ্ট্রের আচরণই তাঁকে অনুভব করাক—তিনি সত্যিই সমান
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বারবার বলতে হবে না ‘সংখ্যালঘু নন’, রাষ্ট্রের আচরণই তাঁকে অনুভব করাক—তিনি সত্যিই...

জন্মাষ্টমীর পবিত্র দিনে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি উচ্চারণ বি...

গ্যাস সংকটে অর্ধেক পোশাকশিল্প, চাই জরুরি সমাধান
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্যাস সংকটে অর্ধেক পোশাকশিল্প, চাই জরুরি সমাধান

২ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বসেছিল বাংলাদেশ প...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

প্রধানমন্ত্রীর দেড়শ টাকার খাবারের দাওয়াত পেলেন বিরোধীদলীয় নেতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুপুরের খাবারের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা—এমন ব্যয়ের প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সেই খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কার্যপ্রণালিবিধির ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুপুরের খাবারের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা—এমন ব্যয়ের প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সেই খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কার্যপ্রণালিবিধির ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন প্রধান দুই দলের প্রধানদের এমন আচরণের ইতিবাচক প্রভাব দেশের রাজনীতিতে পড়বে ?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 23 ঘন্টা আগে