গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

নেপালের দুর্যোগে বৈশ্বিক তহবিল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা জরুরি

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

প্রকাশিত: ২১:০৯ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৯:২০ এএম ২০২৬
নেপালের দুর্যোগে বৈশ্বিক তহবিল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা জরুরি
ছবি

নেপালের দুর্যোগে বৈশ্বিক তহবিল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা জরুরি

নেপালে আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, ধস ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় তিনশ ছুঁয়েছে এবং দেড় শতাধিক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। মুহূর্তের মধ্যে নদীমাতৃক ও পাহাড়ি জনপদের জনজীবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি শুধু হিমালয়কন্যা নেপালকেই স্তব্ধ করে দেয়নি, বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার আবহাওয়াবিদ ও নীতিনির্ধারকদের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াল থাবায় যেভাবে অপ্রতিরোধ্য গতিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে, এ বন্যা তারই এক নিদারুণ ও নির্মম বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে বর্ষার স্বাভাবিক মেজাজ হারিয়ে যেভাবে হুট করে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হচ্ছে, তা জনজীবনকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতির পেছনে কেবল আবহাওয়ার চরমভাবাপন্ন রূপই দায়ী নয়, বরং অপরিকল্পিত নগরায়ন, পাহাড় কেটে বসতি ও রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং নদী ব্যবস্থাপনার চরম দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, পাহাড়ি অঞ্চলের ভঙ্গুর ভূ-প্রকৃতিকে উপেক্ষা করে যত্রতত্র ভারী স্থাপনা গড়ে তোলায় বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথেই পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে নেমে আসছে। এর পাশাপাশি জলবায়ুর পরিবর্তনে হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়া এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ঘাটতি সাধারণ মানুষকে সময়মতো নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজ শুরু হতে না হতেই বহু মূল্যবান প্রাণহানি ঘটে গেছে। এই মর্মান্তিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ কোনো ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে আবদ্ধ থাকে না। হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং আকস্মিক দুর্যোগের পূর্বাভাস প্রদানে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক তথ্য বিনিময় ও যৌথ গবেষণার পরিধি আরো বাড়াতে হবে। পাহাড়ি ঢল ও নদীমাতৃক এই অঞ্চলে আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বৈশ্বিক তহবিল ও প্রযুক্তিগত সহায়তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

বলা বাহুল্য, নেপালের সাম্প্রতিক ওই বিপর্যয় প্রমাণ করে- পাহাড়ি অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি এখন আর কোনো দূরবর্তী আশঙ্কা নয়; বরং দোরগোড়ায় কড়া নাড়া এক বর্তমান বাস্তবতা। অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং নদী ও পাহাড়ি ঢালের কাছাকাছি বসতি স্থাপন এ বিপদকে আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই সংকটময় মুহূর্তে নেপাল সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো মানবিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার এবং দুর্গতদের মধ্যে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার নদীমাতৃক ও পাহাড়ি দেশগুলোকে ভবিষ্যতের এমন আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক আবহাওয়া সতর্কবার্তা এবং নদী অববাহিকাভিত্তিক তথ্যবিনিময়ে একযোগে কাজ করতে হবে।

আমরা মনে করি, হিমালয়ের পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমেই কেবল নেপালের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে মানবসভ্যতা ও প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। নেপালের ওই শোকাবহ ঘটনা যেন কেবল একটি সংবাদ শিরোনামে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং পুরো অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষায় নীতিনির্ধারকদের জোরালো পদক্ষেপের একটি নতুন সূচনা ঘটায়। আমাদের প্রত্যাশা, এই ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আঞ্চলিক সমন্বিত দুর্যোগ মোকাবিলা কৌশল অবলম্বনে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে নেপাল কর্তৃপক্ষ।

কেএমএএ/আপ্র/২৭.০৮.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

সড়কে অপরাধীদের দাপট, রাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা কোথায়?
২১ অক্টোবর ২০২৬

সড়কে অপরাধীদের দাপট, রাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা কোথায়?

রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়া। অথচ দেশের বিভিন...

আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, ঋণের ফাঁদে বিপন্ন জনজীবন
২০ অক্টোবর ২০২৬

আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, ঋণের ফাঁদে বিপন্ন জনজীবন

পরিবারের আয় দিয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটানো মানুষের মৌলিক আর্থিক নিরাপত্তার শর্ত। অথচ দেশের ৪৭ দশমিক ৪২...

মানুষ অবকাশে যাবে, মৃত্যুফাঁদে নয়: নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক
১৯ অক্টোবর ২০২৬

মানুষ অবকাশে যাবে, মৃত্যুফাঁদে নয়: নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক

মানুষ অবকাশকেন্দ্রে যায় নিরাপদে ভ্রমণ, পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দময় সময় কাটানো এবং কর্মব্যস্ত জীবনের ক্...

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার দৃঢ় নিশ্চয়তাই হোক সম্প্রীতিময় রাষ্ট্রের ভিত্তি
১৮ অক্টোবর ২০২৬

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার দৃঢ় নিশ্চয়তাই হোক সম্প্রীতিময় রাষ্ট্রের ভিত্তি

শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালির ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বহুত্ববাদী সমাজজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনু...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দল বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: প্রধানমন্ত্রী

দেশের বিভিন্ন স্থানে ও কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির পেছনে পলাতক স্বৈরাচার ও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে তাঁর কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে দাবি করে তিনি বলেছেন, এক পক্ষ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে, অন্য পক্ষ দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 6 ঘন্টা আগে