এস এ খান শিল্টু: হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও হুমকির অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ এবং নিজেদের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে মেহেরপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে হেযবুত তওহীদ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় মেহেরপুর প্রেস ক্লাবে জেলা হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেহেরপুর জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি মো. আব্দুস সালাম। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কুষ্টিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক আমির মো. জসেব উদ্দিন। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মো. শরিফুল ইসলাম, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলামসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মেহেরপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মাহমুদ।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গত ১ আগস্ট নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক, কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে। ওই সমাবেশে হেযবুত তওহীদের ইমাম ও সদস্যদের বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক ও হিংসাত্মক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ওই সমাবেশ থেকে হেযবুত তওহীদের ‘আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে’ দেশ থেকে উৎখাতের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সমাবেশে অংশ নেওয়া নারীদের ‘পতিতা’ বলে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন। তাঁদের ভাষ্য, সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের দেওয়া সুনির্দিষ্ট শর্তগুলোও যথাযথভাবে মানা হয়নি।
এ ছাড়া ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে পেশ করা নয় দফা দাবির ষষ্ঠ দফায় হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, হেযবুত তওহীদের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তাঁদের দাবি, এর আগে উগ্রবাদীদের ইন্ধনে পোরকরা গ্রামে হেযবুত তওহীদের ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের গ্রামের বাড়িতে চার দফা সংঘবদ্ধ হামলা হয়েছে। এসব হামলায় তাঁদের দুই সদস্য নিহত এবং শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন বক্তারা।
তাঁরা বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে হেযবুত তওহীদের হাজার হাজার সদস্য এবং নোয়াখালীতে সংগঠনটির স্কুল, হাসপাতাল, খামার, পোশাক কারখানাসহ অর্ধশতাধিক উন্নয়ন প্রকল্প হুমকির মুখে রয়েছে।
বক্তারা হেযবুত তওহীদকে একটি অরাজনৈতিক সংস্কারমূলক আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে কাজ করছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ সময়ে সংগঠনটির সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রায় ছয় শতাধিক মামলা হলেও গত ৩১ বছরে কোনো সদস্য আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হননি; বরং তাঁরা সবাই খালাস পেয়েছেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, তাঁদের আকিদা ও বিশ্বাস ইসলামের মৌলিক বিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালন ও প্রচারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। হেফাজতে ইসলাম নিজেদের উগ্র এজেন্ডা বাস্তবায়নে সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
দাবিগুলো কী
সংবাদ সম্মেলনে উসকানি ও ফতোয়া প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ ব্যবহার করে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা, হেযবুত তওহীদের কার্যালয়, সদস্যদের পরিবার ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংগঠনটির সদস্যদের মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষার দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের উগ্রবাদ, মব সহিংসতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। দেশের সংবিধান, আইনের শাসন ও প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখারও অনুরোধ জানান তাঁরা।
সানা/আপ্র/২৭/৮/২০২৬