নদীমাতৃক বাংলাদেশের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে নৌপথের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো- দীর্ঘকাল ধরে আমাদের অভ্যন্তরীণ, উপকূলীয় ও সমুদ্রগামী জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের কোনো সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় ডেটাবেজ ছিল না। অবশেষে এই ব্যবধান ঢ়োচাতে এবং নৌপরিবহন খাতকে আধুনিক ও তথ্যভিত্তিক করতে আজ থেকে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’; যা চলবে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রথম দেশব্যাপী শুমারি দেশের নৌ খাতের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
বলার অপেক্ষা রাখে না, নৌপথের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে সড়কপথের ওপর অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ কমানো বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু অপরিকল্পিত নৌযান চলাচল, ফিটনেসবিহীন নৌযান ও সঠিক নিবন্ধনের অভাব প্রায়ই মর্মান্তিক নৌ-দুর্ঘটনার জন্ম দেয়। আজকের এই শুমারির মাধ্যমে দেশের সব ধরনের ইঞ্জিনচালিত নৌযান, ডাম্ব বার্জ এবং থিম পার্কের ওয়াটার ভেসেলের সঠিক সংখ্যা, ধরন, মালিকানা ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য রেকর্ড করা হবে। ফলে একটি নির্ভুল ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি হবে- যা নীতিনির্ধারকদের সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, অবৈধ নৌযান শনাক্তকরণ ও নৌপথের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। তবে এই মহৎ উদ্যোগের শতভাগ সাফল্য নির্ভর করছে শুমারিতে নিয়োজিত কর্মী এবং সাধারণ জনগণ তথা নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ওপর।
বলা বাহুল্য, অনেক অসাধু মালিকরা শুমারিতে সঠিক তথ্য লুকিয়ে অনিবন্ধিত নৌযান বাঁচানোর অপচেষ্টা করতে পারেন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। একই সঙ্গে তথ্য প্রদানকারীদের নির্ভুল তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।আমরা আশা করি, এই শুমারির সফল সমাপ্তির মাধ্যমে দেশের নৌপথ ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ কাঠামোর মধ্যে আসবে। একটি আধুনিক ও তথ্যসমৃদ্ধ নৌ-খাত গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল হোক- এটিই আমাদের প্রত্যাশা।
কেএমএএ/আপ্র/২০.০৮.২০২৬