নিয়মিত সিঁড়ি ভাঙা বা ওঠানামার সঙ্গে হৃদরোগ, অকালমৃত্যু ও সামগ্রিক মৃত্যুঝুঁকির সম্পর্ক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সিঁড়ি ব্যবহারকারীদের হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং হার্ট ফেইলিউরের মতো গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও তুলনামূলকভাবে কম।
লিফটের বদলে নিয়মিত সিঁড়ি ব্যবহার হৃদযন্ত্রের জন্য উল্লেখযোগ্য উপকার বয়ে আনতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সিঁড়ি ব্যবহার করেন, তাদের হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে ৩৯ শতাংশ এবং যে কোনো কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি ২৪ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়া এবং নরফোক অ্যান্ড নরউইচ ইউনিভার্সিটি হসপিটালের গবেষকেরা এ গবেষণা পরিচালনা করেছেন। গবেষণাটি ১৩ আগস্ট এমরিকান জার্নাল অফ কার্ডিওভাস্কুলার ড্রাগস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় নিয়মিত সিঁড়ি ভাঙা বা ওঠানামার সঙ্গে হৃদ্রোগ, অকালমৃত্যু এবং সামগ্রিক মৃত্যুঝুঁকির সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, সিঁড়ি ব্যবহারকারীদের হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং হার্ট ফেইলিউরের মতো গুরুতর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও তুলনামূলকভাবে কম।
গবেষক দল প্রথমে প্রায় ১ হাজার ৯০০ গবেষণা পর্যালোচনা করে। এর মধ্য থেকে মানসম্মত নয়টি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়, যাতে মোট ৪ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ৩৫ থেকে ৮৪ বছরের মধ্যে এবং তাদের মধ্যে সুস্থ মানুষের পাশাপাশি আগে থেকে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও ছিলেন। গবেষণাগুলোয় অংশগ্রহণকারীদের গড়ে প্রায় ১৪ বছর অনুসরণ করা হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার নরউইচ মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক ভ্যাসিলিওস ভ্যাসিলিউ বলেন, বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হৃদরোগ। তবে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হৃদ্রোগের বড় অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তার মতে, দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক পরিশ্রম বাড়ানোর সবচেয়ে সহজ কিন্তু প্রায়ই উপেক্ষিত উপায়গুলোর একটি হলো সিঁড়ি ব্যবহার করা।
গবেষণার অন্যতম লেখক ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ সোফি প্যাডক বলেন, সিঁড়ি ব্যবহারের জন্য আলাদা করে ব্যায়ামাগারে যেতে হয় না কিংবা নির্দিষ্ট সময় বের করারও প্রয়োজন পড়ে না। বাড়ি, কর্মস্থল কিংবা বাইরে চলাফেরার সময় সহজেই এটি দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ করা যায়।
আগের কিছু গবেষণার তথ্যও নতুন বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেগুলোয় দেখা গেছে, সপ্তাহে কয়েকবার কয়েক মিনিট করে সিঁড়ি ওঠানামা করলেও হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়তে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে পারে।
বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত বড় একটি গবেষণায় দিনে প্রায় ছয় তলায় ওঠার সঙ্গে তুলনামূলকভাবে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যগত উপকারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে ঠিক কতটুকু সিঁড়ি ওঠা সবচেয়ে বেশি উপকারী, তা নিশ্চিত করতে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। তাদের মতে, সাধারণভাবে সিঁড়ি ওঠার পরিমাণ যত বেশি, স্বাস্থ্যগত উপকারও তত বেশি হতে পারে। তবে খুব অল্প পরিমাণে সিঁড়ি ব্যবহার করলেও কিছু ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া গেছে।
গবেষকরা অবশ্য সতর্ক করেছেন, সিঁড়ি ব্যবহার সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। বিশেষ করে চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা বা জয়েন্টের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ভবিষ্যতে পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সিঁড়ি ব্যবহারের পরিমাণ আরো নির্ভুলভাবে মাপার পরিকল্পনা রয়েছে- যাতে হৃদস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে কার্যকর মাত্রা নির্ধারণ করা যায়।
সূত্র: অনলাইন
কেএমএএ/আপ্র/২০.০৮.২০২৬