অনুকূল আবহাওয়ার প্রভাবে চলতি মৌসুমে দেশে আমের বাম্পার ফলনের জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, এ বছর আম উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ লাখ ৬৬ হাজার মেট্রিক টন। তবে অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে সেই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অধিদপ্তরের ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’-এর পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, এ বছর দেশে প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এখন পর্যন্ত উৎপাদনে বড় কোনো বাধা দেখা না দেওয়ায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আগামী মে মাস থেকে আম সংগ্রহ শুরু হয়ে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে।
তিনি বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে বড় ধরনের ক্ষতি না হলে উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টন ছাড়াতে পারে। পাশাপাশি রপ্তানিতেও নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত বছর বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৮টি দেশে ২ হাজার ১৯৪ মেট্রিক টন আম রপ্তানি করে রেকর্ড গড়েছিল। এবার রপ্তানির পরিমাণ ৩ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। নতুন করে মালয়েশিয়া ও জাপানের বাজারেও রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের কৃষকরাও ভালো ফলনের ব্যাপারে আশাবাদী। রংপুরের পীরগঞ্জের আমচাষি ফারুখ প্রধান জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও কম গুটি ঝরার কারণে অধিকাংশ বাগানে মুকুলের পরিমাণ বেড়েছে। বড় ধরনের ঝড় না হলে ফলন খুব ভালো হবে বলে তিনি আশা করছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাগান মালিক শাফিউল আলম ইমরান বলেন, উন্নত জাতের চারা, সুষম সার প্রয়োগ এবং আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনার কারণে উৎপাদন বাড়ছে। সাতক্ষীরাসহ অন্যান্য উৎপাদন এলাকাতেও একই ধরনের প্রত্যাশা করছেন চাষিরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক দশকে দেশে আম উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ২১ লাখ ৪৩ হাজার টন, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ লাখ ৭০ হাজার টনে। একই সময়ে রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে ক্ষীরসাপাতি, গোপালভোগ, ফজলি, হাঁড়িভাঙা ও আম্রপালি জাতের আম যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব, জার্মানি ও সুইডেনসহ বিশ্বের অন্তত ৩৮টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। গত বছর প্রথমবারের মতো চীনের বাজারেও বাংলাদেশি আম প্রবেশ করেছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়ার ফলে উৎপাদন বাড়ছে। তবে রপ্তানিতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
এসি/আপ্র/২১/০৪/২০২৬