গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

চালের দামে পতন, বোরো মৌসুমে শঙ্কা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩:০৩ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৫১ এএম ২০২৬
চালের দামে পতন, বোরো মৌসুমে শঙ্কা
ছবি

বিদেশ থেকে চাল আমদানি অব্যাহত থাকায় দেশের বাজারে দেশীয় ধানের দাম কমে গেছে -ছবি সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমন মৌসুম শেষে ধানের দামে ব্যাপক পতন ঘটেছে। বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে চরম উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকেরা। এরই মধ্যে হাওরাঞ্চলে কয়েক দিনের মধ্যেই বোরো ধান কাটা শুরু হতে যাচ্ছে। মাসখানেকের মধ্যে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বোরো সংগ্রহ শুরু হবে। তবে আমনের দরপতনের প্রভাবে আসন্ন বোরো মৌসুম নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে কৃষকদের মধ্যে।

কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিদেশ থেকে চাল আমদানি অব্যাহত থাকায় দেশের বাজারে দেশীয় ধানের দাম কমে গেছে। ভারত ও পাকিস্তান থেকে চাল আমদানি হচ্ছে। প্রতি কেজি চাল আমদানিতে ব্যয় পড়ছে প্রায় ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা। এতে ব্যবসায়ীরা আমদানিকৃত চালের দিকেই ঝুঁকছেন। ফলে বাজারে বিদেশি চালের সরবরাহ বেড়ে গিয়ে দেশীয় ধানের দাম আরো কমে গেছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের সাড়ে নয় মাসে বেসরকারি পর্যায়ে ৭ লাখ ২৪ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে। আগের পুরো অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ৬ লাখ ১ হাজার টন। সরকারি পর্যায়ে চলতি অর্থবছরে আরো ৩ লাখ ৯৯ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট আমদানি দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ২৪ হাজার টন।

বাজার পরিস্থিতিতে উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ধানের দাম কমে গেছে। মৌসুমের শুরুতে তুলনামূলক ভালো দাম থাকলেও এখন তা উৎপাদন খরচের নিচে নেমে এসেছে বলে জানান কৃষকেরা।

নওগাঁসহ বিভিন্ন অঞ্চলে স্বর্ণা জাতের ধান প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১১০০ থেকে ১১৫০ টাকায়। জিরাশাইল ধান ১৪০০ থেকে ১৪৫০ টাকা এবং সম্পা কাটারি ১৮০০ থেকে ১৯৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষকেরা জানান, গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কম দাম পাচ্ছেন তারা। অনেক ক্ষেত্রে হাটে ক্রেতার অভাবে ধান বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

কৃষকদের দাবি, সার, বীজ, কীটনাশক ও জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ার পরও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফলে আমন ধান বিক্রি করে বোরো চাষের খরচও উঠছে না।

মোকাম ও বাজারে পাইকারদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ধান বিক্রি আরো কমে গেছে বলে জানান স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। মিল পর্যায়েও ধান ক্রয়ের পরিমাণ কমেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি করা চালের কারণে বাজারে দেশীয় ধানের চাহিদা কমে গেছে। অনেক মিলেই এখন পর্যাপ্ত চাল মজুত থাকায় নতুন ধান কেনা বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের মতে, পূর্বে খোলা এলসির মাধ্যমে আসা চাল এখনো দেশে প্রবেশ করছে। এ পরিস্থিতিই বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে এবং কৃষকের ধানের দাম কমিয়ে দিচ্ছে।

তবে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার নতুন করে চাল আমদানির অনুমতি দিচ্ছে না। পূর্বের আমদানি ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আসন্ন বোরো মৌসুমে প্রায় ১৮ লাখ টন ধান ও চাল সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের হিসাবে, দেশে চলতি বছরে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টন আমন ধান উৎপাদিত হয়েছে। বোরো মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টন। হাওরাঞ্চলে শিগগিরই ধান কাটা শুরু হবে, যা মে মাস পর্যন্ত চলবে।
সানা/আপ্র/১৮/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের
২৬ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের

বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে ১ লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের ব্যবস্...

বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম
২৬ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম

বিশ্ববাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার (২৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধি...

জাপানের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ‘নতুন সম্ভাবনা’
২৬ অক্টোবর ২০২৬

জাপানের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ‘নতুন সম্ভাবনা’

জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে...

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা চান খাদ্যমন্ত্রী
২৫ অক্টোবর ২০২৬

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা চান খাদ্যমন্ত্রী

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, আমদানি করা খাদ্যশস্যের গুণগত মান পরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 23 ঘন্টা আগে