গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

চালের দামে পতন, বোরো মৌসুমে শঙ্কা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩:০৩ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৮:১৭ এএম ২০২৬
চালের দামে পতন, বোরো মৌসুমে শঙ্কা
ছবি

বিদেশ থেকে চাল আমদানি অব্যাহত থাকায় দেশের বাজারে দেশীয় ধানের দাম কমে গেছে -ছবি সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমন মৌসুম শেষে ধানের দামে ব্যাপক পতন ঘটেছে। বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে চরম উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকেরা। এরই মধ্যে হাওরাঞ্চলে কয়েক দিনের মধ্যেই বোরো ধান কাটা শুরু হতে যাচ্ছে। মাসখানেকের মধ্যে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বোরো সংগ্রহ শুরু হবে। তবে আমনের দরপতনের প্রভাবে আসন্ন বোরো মৌসুম নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে কৃষকদের মধ্যে।

কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিদেশ থেকে চাল আমদানি অব্যাহত থাকায় দেশের বাজারে দেশীয় ধানের দাম কমে গেছে। ভারত ও পাকিস্তান থেকে চাল আমদানি হচ্ছে। প্রতি কেজি চাল আমদানিতে ব্যয় পড়ছে প্রায় ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা। এতে ব্যবসায়ীরা আমদানিকৃত চালের দিকেই ঝুঁকছেন। ফলে বাজারে বিদেশি চালের সরবরাহ বেড়ে গিয়ে দেশীয় ধানের দাম আরো কমে গেছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের সাড়ে নয় মাসে বেসরকারি পর্যায়ে ৭ লাখ ২৪ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে। আগের পুরো অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ৬ লাখ ১ হাজার টন। সরকারি পর্যায়ে চলতি অর্থবছরে আরো ৩ লাখ ৯৯ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট আমদানি দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ২৪ হাজার টন।

বাজার পরিস্থিতিতে উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ধানের দাম কমে গেছে। মৌসুমের শুরুতে তুলনামূলক ভালো দাম থাকলেও এখন তা উৎপাদন খরচের নিচে নেমে এসেছে বলে জানান কৃষকেরা।

নওগাঁসহ বিভিন্ন অঞ্চলে স্বর্ণা জাতের ধান প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১১০০ থেকে ১১৫০ টাকায়। জিরাশাইল ধান ১৪০০ থেকে ১৪৫০ টাকা এবং সম্পা কাটারি ১৮০০ থেকে ১৯৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষকেরা জানান, গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কম দাম পাচ্ছেন তারা। অনেক ক্ষেত্রে হাটে ক্রেতার অভাবে ধান বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

কৃষকদের দাবি, সার, বীজ, কীটনাশক ও জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ার পরও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফলে আমন ধান বিক্রি করে বোরো চাষের খরচও উঠছে না।

মোকাম ও বাজারে পাইকারদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ধান বিক্রি আরো কমে গেছে বলে জানান স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। মিল পর্যায়েও ধান ক্রয়ের পরিমাণ কমেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি করা চালের কারণে বাজারে দেশীয় ধানের চাহিদা কমে গেছে। অনেক মিলেই এখন পর্যাপ্ত চাল মজুত থাকায় নতুন ধান কেনা বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের মতে, পূর্বে খোলা এলসির মাধ্যমে আসা চাল এখনো দেশে প্রবেশ করছে। এ পরিস্থিতিই বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে এবং কৃষকের ধানের দাম কমিয়ে দিচ্ছে।

তবে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার নতুন করে চাল আমদানির অনুমতি দিচ্ছে না। পূর্বের আমদানি ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আসন্ন বোরো মৌসুমে প্রায় ১৮ লাখ টন ধান ও চাল সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের হিসাবে, দেশে চলতি বছরে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টন আমন ধান উৎপাদিত হয়েছে। বোরো মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টন। হাওরাঞ্চলে শিগগিরই ধান কাটা শুরু হবে, যা মে মাস পর্যন্ত চলবে।
সানা/আপ্র/১৮/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিশ্ববাজারে আবারো বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ববাজারে আবারো বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত আরো তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েই চলেছে।...

দরপত্র ছাড়া আরো ১৮ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দরপত্র ছাড়া আরো ১৮ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ও মজুদ কমে যাওয়ায় দরপত্র ছাড়াই...

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইলিশ চায় ভারত
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইলিশ চায় ভারত

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার বাংলাদেশের ইলিশ চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। ইলিশ পাঠানোর অ...

পাঁচ মাসে রেকর্ড বিদেশি ঋণ পরিশোধ সরকারের
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাঁচ মাসে রেকর্ড বিদেশি ঋণ পরিশোধ সরকারের

দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসে রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে সরকার। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই কর পরিশোধের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৩ অর্থবছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই রায় সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 22 ঘন্টা আগে