গাজীপুরের শ্রীপুরে অবৈধভাবে দখল করা বনভূমি উদ্ধারে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষকসহ অন্তত ২০ জন বন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। আহতদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তা গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলাকারীরা তাঁর ব্যবহৃত সরকারি গাড়িও ভাঙচুর করেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ডুমবাড়ি চালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীপুরের রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক মোখলেছুর রহমান, সদর বিট কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন, সাতখামাইর বিট কর্মকর্তা মো. বিপ্লব হোসেন, বন প্রহরী মো. শাকিল দেওয়ান, মো. কামাল হোসেন, মো. ফিরোজ মিয়া, শহিদুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, আব্দুল মতিন, আব্দুস সামাদ, মো. লাল মিয়া, লাভলু মিয়া, মো. আব্দুল হাকিম, মো. জসিম উদ্দিন, মো. সাজুসহ অন্তত ২০ জন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ডুমবাড়ি চালা গ্রামের সিএস, এসএ ও আরএস রেকর্ডভুক্ত দুই নম্বর খতিয়ানের প্রায় এক একর বনভূমি রয়েছে। ওই এলাকার দুলাল মিয়া বন বিভাগের বাধা উপেক্ষা করে সাত শতাংশ বনভূমি জবরদখল করে সেখানে পাকা বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন।
এ অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি দল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় দুলাল মিয়ার স্ত্রী আম্বিয়া ও মেয়ে সালমার সঙ্গে বনকর্মীদের কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমানকে গুরুতর আহত করে। এ ছাড়া সদর বিট কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন, সাতখামাইর বিট কর্মকর্তা মো. বিপ্লব হোসেনসহ আরও অন্তত ১৭ জন বনকর্মী আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সাতখামাইর বিট কর্মকর্তা মো. বিপ্লব হোসেন বলেন, একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রচ্ছায়ায় দুলাল মিয়া বনভূমি জবরদখল করে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। বন বিভাগ একাধিকবার বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করা হয়। উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গেলে বনভূমি দখলকারীরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়, এতে রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক মোখলেছুর রহমান বলেন, সরকারি বনভূমি রক্ষার স্বার্থে ডুমবাড়ি চালা এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সংঘবদ্ধ দখলকারীরা বনকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তিনি নিজেসহ অন্তত ২০ জন আহত হন এবং হামলাকারীরা তাঁর ব্যবহৃত সরকারি গাড়িও ভাঙচুর করে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহিনূর আলম বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. সামসুল আরেফিন বলেন, বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যান। আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সানা/আপ্র/১/৭/২০২৬