বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গণমাধ্যমের আরো সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। একই সঙ্গে পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ, বনসম্পদ রক্ষা এবং পরিবেশগত নানা সংকট মোকাবিলায় অনুসন্ধানী ও জনসচেতনতামূলক প্রতিবেদন প্রকাশে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
‘জার্নালিজম ফর সুন্দরবন’ কর্মসূচির আওতায় সুন্দরবন সাংবাদিক ফোরামের উদ্যোগে এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের সহযোগিতায় রোববার (২৮ জুন) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের শহীদ সাংবাদিক হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে খুলনা মহানগরের পাশাপাশি পাইকগাছা, কয়রা ও দাকোপ উপজেলার সাংবাদিকরা অংশ নেন।
সুন্দরবন সাংবাদিক ফোরামের আহ্বায়ক ও খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক এনামুল হকের সভাপতিত্বে এবং সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন কর্মকর্তা দীপ সাহার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু হেনা মোস্তফা জামান পপলু, কৌশিক দে বাপ্পী, ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল আজিজ ও শিপন ভূঁইয়া, প্রবীর কুমার বিশ্বাস, উত্তম মণ্ডল, কাজী শামীম আহমেদ, কামাল হোসেন, প্রকাশ ঘোষ বিধান, স্নেহেন্দু বিকাশ, রমেন রায়, রুহুল আমিন, সাইফুর রহমান, দীপক কুমার, ইয়াসির আরাফাত ও শেখ আব্দুল হামিদ।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন রূপান্তরের সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী শুভাশিস ভট্টাচার্য এবং প্রকল্প কর্মকর্তা সাকী রেজওয়ানা।
বক্তারা বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্রমেই বড় হুমকি হয়ে উঠছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি গণমাধ্যমের ধারাবাহিক প্রতিবেদন, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা আরো জোরদার করা প্রয়োজন।
আলোচনায় সুন্দরবনে বনদস্যু ও জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, বননির্ভর জেলে ও অন্যান্য পেশাজীবীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, প্রজনন মৌসুমে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা, বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন প্রতিরোধ, দৈনন্দিন জীবনে পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারের প্রসার, বনসম্পদ লুট ও পাচার রোধে বন বিভাগের জবাবদিহিমূলক ভূমিকা নিশ্চিত করা, সুন্দরবনসংলগ্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং সুন্দরবন সুরক্ষা ও দূষণ প্রতিরোধে বিষয়ভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় সুন্দরবন সংরক্ষণ এবং পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ বিষয়ে মানসম্মত ও প্রভাবশালী প্রতিবেদন প্রকাশের স্বীকৃতিস্বরূপ সাংবাদিক প্রকাশ ঘোষ বিধান, আবু হেনা মোস্তফা জামান পপলু এবং কৌশিক দে বাপ্পীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা, জনসম্পৃক্ততা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সুন্দরবনের পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং এই বিশ্ব ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।
সানা/আপ্র/২৮/৬/২০২৬