চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় একমাত্র আসামি মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল (মহানগর) চট্টগ্রামের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন। বিচার শুরু হওয়ার মাত্র আট কার্যদিবস এবং মামলার ২৬ দিনের মাথায় এ রায় দেওয়া হলো।
রায় ঘোষণার সময় বেলা ২টা ২০ মিনিটে আদালত কার্যক্রম শুরু হয় এবং বেলা ৩টায় শেষ হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, শিশুধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ শিশুর শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস ও স্বাভাবিক জীবনযাপনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। শিশু সমাজের সবচেয়ে অসহায় ও সুরক্ষার প্রয়োজনীয় অংশ, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি যখন শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন চালায়, তখন তা শুধু একটি শিশুর অধিকার লঙ্ঘন নয়, বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তিকেও আঘাত করে।
ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মাহমুদুল আলম চৌধুরী বলেন, আট কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করে আদালত রায় ঘোষণা করেছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে ৯ জুন বিচার শুরু হয়। মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে সাক্ষ্য ও অন্যান্য কার্যক্রম শেষ হয়। ৪ জুন তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে বাকলিয়া এলাকার চেয়ারম্যানঘাটা থেকে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পুলিশ কৌশলে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। এরপরও বিক্ষুব্ধরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
২২ মে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
বাকলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য, মেডিকেল রিপোর্টসহ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়।
এ নিয়ে একই দিনে চট্টগ্রাম আদালতে আরো একটি আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা হয়, যেখানে শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতের অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৭/৬/২০২৬