বাগেরহাটের চিতলমারি উপজেলার শৈলদাহ এস ই এস ডি পি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ ও মারধরের ঘটনার পর স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা গাউচ কাজীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এতে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ এপ্রিল সকালে বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিরাজুল ইসলামকে পথরোধ করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দক্ষিণ শৈলদাহ এলাকায় মধুমতি নদীর ভাঙন চলমান থাকা সত্ত্বেও গাউচ কাজী অবৈধভাবে বালি উত্তোলনে সহযোগিতা ও অর্থ গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরো বেড়েছে বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী।
এছাড়া এক ব্যক্তিকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং একটি ঘটনায় প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। একাধিক ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা এসব ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন।
আরো অভিযোগ রয়েছে, একটি পারিবারিক ঘটনায় এক মুসলিম মেয়েকে চাপ প্রয়োগ করে ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে দিতে বাধ্য করা এবং এ ঘটনায় অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথাও বলা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় জুয়া ও মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া জমি দখল ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আনা হয়েছে।
অভিযুক্ত গাউচ কাজী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, যা সমাধান হয়েছে। তাঁর দাবি, অন্যান্য অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা এবং একাধিক অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সানা/আপ্র/৫/৫/২০২৬