ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভোজ্য তেলের সম্ভাব্য সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ক্রেতারা।
সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ সরকার নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি হলেও নতুন বছরের শুরু থেকেই বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। ক্রেতাদের অভিযোগ, ২০২৬ সালে সরকার এখন পর্যন্ত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো ঘোষণা না দিলেও সুলতানপুর বড় বাজারের কিছু ব্যবসায়ী নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছেন। প্রতিদিন সকালেই নতুন ও বর্ধিত দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুলতানপুর বাজারে তেল কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে কোনো তদারকি নেই। বুধবার যে তেল এক দামে কিনেছি, শুক্রবার সকালে এসে দেখি তার চেয়ে ২ থেকে ৪ টাকা বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে।
দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বাজারের কয়েকজন খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী দাবি করেন, ঢাকায় সরবরাহ পর্যায়ে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। তবে সরবরাহ সংকটের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। সাধারণ মানুষ একে ব্যবসায়ীদের কারসাজি হিসেবেই দেখছেন।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা বাজার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছি। কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসনের এনডিসি জানান, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুতই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সানা/আপ্র/৭/৩/২০২৬