মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি: খাল খনন প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের দিন শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী ও মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, বিগত শাসনামলে ৮০ শতাংশ টাকা লোপাট করে মাত্র ২০ শতাংশ কাজ করার যে সংস্কৃতি চালু ছিল, বর্তমান সরকার তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না। সরকারি কাজের গুণগতমান নিয়ে কোনো আপস করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে মহম্মদপুর সরকারি আরএসকেএইচ ইনস্টিটিউশন মাঠ প্রাঙ্গণে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজিত বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পর এদিনই প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনী এলাকায় আসেন তিনি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান থেকেই মন্ত্রী মাগুরায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘অপরাধ যে করবে, চাঁদাবাজি যে করবে—সে যে দলেরই হোক, সরকারি কর্মচারী হোক বা অন্য কেউ—আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। অপরাধ করলে সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে মাগুরা-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় সংস্কৃতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান নিতাই রায় চৌধুরী। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
শুক্রবার সকালে ফরিদপুর-মাগুরা সীমান্তবর্তী কামারখালীর গড়াই সেতু এলাকা থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে হাজারো নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানান। পরে মাগুরা সার্কিট হাউসে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান-কে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিথুন রায় চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মৈমূর আলী মৃধা। সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম তারা ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান মিল্টন।
বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। নদী ও খাল খননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশকে আরও শক্তিশালী কৃষিভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত করা হবে।’ তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে বিএনপির বহু নেতাকর্মী শত শত মামলার আসামি হয়েছেন এবং রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন।
জুলাই-আগস্টের আন্দোলন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের বিপ্লবী অভ্যুত্থান হঠাৎ আসেনি; এর পেছনে গভীর প্রেক্ষাপট রয়েছে, যা বুঝতে হবে।’
অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, দলীয় কর্মী-সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মন্ত্রীর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তাঁর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি ছিল সুশৃঙ্খল, প্রাণবন্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখরিত।
সানা/আপ্র/২৮/২/২০২৬