মোঃ আকরাম হোসেন: টাঙ্গাইলে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা এবং বাধা দেওয়ায় ইট দিয়ে নাক-মুখ থেঁতলে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে বিপ্লব (২২) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে শহরের পার্ক বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে শিশুটির মা বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের অভিযোগে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন।
গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে বলে শিশুটির পরিবারের অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শিশুটির মা জানান, তিনি শহরের ক্যাপসুল মার্কেট এলাকার একটি পার্লারে কাজ করেন। অভিযুক্ত বিপ্লব প্রায়ই ওই পার্লারে যাতায়াত করতেন। শুক্রবার বিকেলে শিশুটি মায়ের কাছ থেকে নিচে যায়। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে বিপ্লব শিশুটির মায়ের কাছে তিনটি চিপস নিয়ে আসেন। মেয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নানা ধরনের টালবাহানা করেন বলে অভিযোগ করেন শিশুটির মা।
পরে এক রিকশাচালক গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরিবারের অভিযোগ, বিপ্লব শিশুটিকে চিপসের প্রলোভন দেখিয়ে কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলায় নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটি কান্নাকাটি করে বাধা দিলে তিনি ইট দিয়ে তার নাক ও মুখে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে শিশুটির নাক ফেটে যায় এবং মুখ ও ঠোঁটে গুরুতর জখম হয়।
ঘটনার পর শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে শিশুটির মা টাঙ্গাইল সদর থানায় ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের অভিযোগে মামলা করেন। রোববার দুপুরে শহরের পার্ক বাজার এলাকা থেকে বিপ্লবকে গ্রেফতার করা হয়। টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, চিকিৎসকের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এদিকে, শনিবার গভীর রাতে ঢাকায় অবস্থানরত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু হাসপাতালে গিয়ে শিশুটিকে দেখেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উন্নত চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন। প্রয়োজন হলে শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থারও আশ্বাস দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছেন তিনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক চিকিৎসক মো. আব্দুল কুদ্দুস জানান, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার সকালে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর আগে হাসপাতালে তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
সানা/আপ্র/০২/১১/২০২৬