কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট গ্রুপের ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণকাজের কারণে বুধবার সকাল থেকে চার দিন গ্যাস সরবরাহ কমে যেতে পারে। এ সময়ে এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট কমবে। ফলে সারাদেশে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্প চাপ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পেট্রোবাংলা।
রোববার (১ নভেম্বর) পেট্রোবাংলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী বুধবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনালে গ্যাস রূপান্তরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ সময় জরুরি রক্ষণাবেক্ষণকাজ সম্পন্ন করা হবে।
আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রক্রিয়াকে রিগ্যাসিফিকেশন বলা হয়। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, সামিটের টার্মিনালে এ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসবে। অর্থাৎ প্রতিদিন ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট বা প্রায় ৩৫ শতাংশ সরবরাহ কমবে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণকাজের কারণে গ্রাহক পর্যায়ে সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে। এ জন্য গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে সামিটের টার্মিনালে একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণকাজ করা হয়েছিল।
দেশে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করে সামিট গ্রুপ, অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি। সামিটের টার্মিনালের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জির সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব।
দেশের গ্যাস চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানি করা এলএনজি দিয়ে পূরণ করা হয়। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত গ্যাসের সঙ্গে এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আবাসিকসহ বিভিন্ন খাতে সরবরাহ করা হয়।
তবে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ এমনিতেই কম থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিল্পকারখানা ও আবাসিক গ্রাহকদের স্বল্প চাপের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এর মধ্যে সামিটের টার্মিনালে চার দিনের রক্ষণাবেক্ষণকাজের কারণে সরবরাহ আরো কমে গেলে শিল্প উৎপাদন ও দৈনন্দিন ব্যবহারে ভোগান্তি বাড়তে পারে। সানা/আপ্র/০১/১১/২০২৬