রাজধানীর ধানমন্ডিতে ফিলিপাইনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রয়াত মুহাম্মদ আবুল কাশেমের স্ত্রী আফিয়া আক্তার হত্যা মামলায় তাঁর ছেলে তাহসিন তারিক অর্ণবকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এদিকে পরিবারের গৃহকর্মী নার্গিস বেগমকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার (১ নভেম্বর)ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ অর্ণবকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই দিন আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম গৃহকর্মী নার্গিস বেগমের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শরিফুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান অর্ণব ও নার্গিসকে আদালতে হাজির করেন। অর্ণবকে কারাগারে আটক রাখার পাশাপাশি নার্গিসের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন তিনি।
শনিবার সকালে ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাটে ছুরিকাঘাতে আফিয়া আক্তার নিহত হন। এ ঘটনায় তাঁর চিকিৎসক মেয়ে নাহরিন নাশিদ স্বর্ণা ছোট ভাই অর্ণবকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ ধানমন্ডি এলাকা থেকে অর্ণবকে গ্রেফতার করে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অর্ণব কোনো কাজকর্ম করতেন না। তিনি প্রায়ই মায়ের কাছে টাকা চাইতেন। টাকা না পেলে ঝগড়া করতেন এবং মাকে হত্যার হুমকি দিতেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর বোন স্বর্ণা।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ির ব্যবস্থাপক মাহবুব ফোন করে স্বর্ণাকে জানান, দারোয়ানের কাছ থেকে তাঁদের ফ্ল্যাটে ঝামেলার খবর পেয়েছেন। এরপর স্বর্ণা গৃহকর্মী নার্গিসকে ফোন করলে তিনি জানান, অর্ণব তাঁর মাকে গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে ডাইনিং রুমে ফেলে রেখেছেন। পরে স্বর্ণার নির্দেশে মাহবুব আফিয়া আক্তারকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বর্ণার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে নার্গিসের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে খাবার খেয়ে নিজের কক্ষে ঘুমাতে যান আফিয়া আক্তার। অর্ণবও তাঁর শোবার ঘরে ছিলেন। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আফিয়া আক্তারের চিৎকার শুনে ডাইনিং রুমে গিয়ে নার্গিস তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় অর্ণবের হাতে ছুরি ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরো বলা হয়, আফিয়া আক্তারের কাছে যেতে চাইলে অর্ণব ছুরি দেখিয়ে নার্গিসকে হত্যার হুমকি দেন। পরে তাঁকে বাসা থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর অর্ণব বাসা ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেছেন স্বর্ণা।
তবে মাকে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অর্ণব। আদালতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তিনি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী। পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে এলেও কেন আনা হয়েছে, তা জানানো হয়নি এবং কারো সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।
আফিয়া আক্তার হত্যা মামলার তদন্ত চলছে। আদালতে অর্ণবের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়নি।
সানা/আপ্র/০১/১১/২০২৬