পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলন, সহিংসতা ও শিল্পাঞ্চলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে কারখানাগুলো চালু রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক ও সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানান। প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকে পোশাকশিল্পের অস্থিরতা এবং শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রমমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কলকারখানা ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে হবে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এদিকে শ্রমিকদের অন্যতম দাবি বিবেচনায় নিয়ে রোববার সকালে ছয় সদস্যের নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে। বোর্ডকে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি এবং নিরপেক্ষ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে। তবে বোর্ডের প্রথম বৈঠকের তারিখ কিংবা নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার সময়সীমা এখনো জানানো হয়নি।
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে নিজের পূর্বনির্ধারিত সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরও বাতিল করেছেন শ্রমমন্ত্রী। সরকারের পক্ষ থেকে মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নতুন মজুরি কত হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। ফলে শ্রমিকদের দাবির সমাধান, কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এই তিনটি বিষয় এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
সানা/আপ্র/০১/১১/২০২৬