ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, আগামী প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে নগরবাসীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নগরের ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আমবাগান তরুণ সংঘ মাঠে আয়োজিত এক উন্মুক্ত বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে জনসচেতনতা বাড়াতে চট্টগ্রাম জেলা তথ্য অফিস এ বৈঠকের আয়োজন করে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ কর্মসূচি সফল করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দায়িত্ব নিতে হবে। শহর শুধু প্রশাসকের নয়, সবার। নিজের শহরকে ভালোবাসলে সেটি পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও নিজের বলে মনে হবে।
আগামী প্রজন্মের জন্য সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজেদের পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নগর পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে চসিক প্রশাসক বলেন, বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পানির বোতল ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হতে পারে। তাই কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি অপসারণ এবং বাড়ির আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় নভেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি, রক্তপাত কিংবা বিপজ্জনক কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নগরবাসীর জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে ডেঙ্গু চিকিৎসাসেবা ও এনএস১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক আয়েশা ছিদ্দিকা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি সফল করতে প্রত্যেক নাগরিককে সম্পৃক্ত হতে হবে। শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ময়লা-আবর্জনা নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে এবং যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও মশার বংশবিস্তার রোধে নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা যুক্ত হলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আমবাগান তরুণ সংঘের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/২৯/১০/২০২৬