রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুটি মেলার নির্মাণাধীন স্থাপনা ভাঙচুর করেছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেয়।
পুলিশ ও মেলাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে পাশাপাশি দুটি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে মাসব্যাপী ‘এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা’ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। পাশেই এক সপ্তাহব্যাপী ‘যুব মেলা’ আয়োজনের কাজও চলছিল। এ উপলক্ষে মাঠে ফটক ও বিভিন্ন স্টল নির্মাণ করা হচ্ছিল।
মেলার কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের অভিযোগ, বুধবার সকালে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী মাঠে গিয়ে নির্মাণাধীন স্থাপনাগুলো ভাঙচুর করেন। ‘গবেষণার মাঠ ফেরত চাই, সচিবালয় নয়’ লেখা ব্যানার নিয়ে তাঁরা এ কার্যক্রম চালান। এ সময় পুলিশের একটি দল সেখানে উপস্থিত থাকলেও শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। ভাঙচুরে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রীও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মেলার জন্য নির্মিত টিনের বেড়ার একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। কয়েকটি কাঠের কাঠামো মাটিতে পড়ে রয়েছে। স্টল নির্মাণের কাজে যুক্ত ব্যক্তিরা সেগুলো খুলে ফেলছিলেন।
যুব মেলার স্টল নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ইউসুফ সর্দার বলেন, তাঁরা সরকারের অনুমতি নিয়েই স্টল নির্মাণ করছেন। মাঠ নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে তা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা উচিত। এ ক্ষেত্রে তাঁদের স্থাপনা ভাঙচুর করা হলো কেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। ভাঙচুরের পর শিক্ষার্থীরা স্টল নির্মাণের যন্ত্রপাতিও নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন ইউসুফ সর্দার।
এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার স্টল নির্মাণের কাজে যুক্ত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁদের মেলার মূল ফটক ভাঙচুর করা হয়েছে। শতাধিক শিক্ষার্থী এসে ভাঙচুর করে চলে যান। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভাঙচুরের বিষয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক তাজুল ইসলাম বলেন, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন। তাঁদের দাবির বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ধরনের ভাঙচুর যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের। সেখানে সচিবালয় স্থাপন করতে দেওয়া হবে না। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকাজে ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে দিতে হবে।
এর আগে মঙ্গলবার মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের জন্য মাটির গুণাগুণ পরীক্ষার কাজ চলছিল। দুপুরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সেখানে গিয়ে মাটি পরীক্ষার যন্ত্রাংশ ও দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। ওই দিন তাঁরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেন। মাঠ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে একটি স্টিয়ারিং কমিটিও গঠন করেন তাঁরা।
সানা/আপ্র/২৮/১০/২০২৬