লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে খোরশেদ আলম (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলোসাদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে তিন দিনের ব্যবধানে উপজেলায় দুজন খুন হলেন।
নিহত খোরশেদ আলম দিলোসাদপুর গ্রামের খান বাড়ির রুহুল আমিনের ছেলে। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
খোরশেদের স্ত্রী আকলিমা আক্তার বলেন, তাঁর স্বামী মাটির ব্যবসা করতেন। বুধবার দুপুরে মোরশেদ ও মজিদ নামের দুজন তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। ঘর থেকে বের হয়ে কিছু দূর যাওয়ার পরই তিনি গুলির শব্দ শুনতে পান। দৌড়ে গিয়ে দেখেন, তাঁর স্বামীর বুক রক্তে ভিজে যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
আকলিমা আক্তারের অভিযোগ, মাটির ব্যবসা নিয়ে ওয়ালিদ নামের এক ব্যক্তি এর আগেও তাঁর স্বামীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছিলেন। স্বামীকে হারিয়ে এখন পরিবারের অন্য সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত তিনি। তাঁর আশঙ্কা, পরিবারের অন্যরাও হামলার শিকার হতে পারেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, খোরশেদের বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে। স্বজনেরা তাঁকে মৃত অবস্থায় লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। দ্রুত তাঁদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে গত রোববার দিবাগত রাত একটার দিকে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের পূর্ব নন্দনপুর গ্রামের ডিপুটি বাড়ি এলাকার একটি সুপারিবাগান থেকে জাকির হোসেন নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। মাদক কারবার নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। নিহত জাকিরের বিরুদ্ধেও অস্ত্র ও মাদকের একাধিক মামলা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সানা/আপ্র/২৮/১০/২০২৬