রংপুর মহানগরীর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনধিকার প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর, অফিসকক্ষ ভাঙচুর, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরিয়ে নেওয়া এবং সিসিটিভি ক্যামেরার সরঞ্জাম চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. ইনামুল হক সোহেল ও সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লায়ন্স ক্লাবের পরিচালক ইনামুল হক সোহেল ও লায়ন একেএম বানিউল আদম বাবু। এ ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন ইনামুল হক সোহেল।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে আসছিলেন। এ নিয়ে আগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান চলাকালে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। নিরাপত্তাকর্মী ও নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক বাধা দিলে তাঁদের মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরো বলা হয়, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ তলায় অবস্থিত ক্লাবের অফিসকক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়, যাতে আনুমানিক এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরিয়ে নেওয়া এবং প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের সিসিটিভি ক্যামেরার সরঞ্জাম ও হার্ডডিস্ক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। আহত নিরাপত্তাকর্মীরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আয়োজকেরা জানান, ঘটনার ভিডিও ফুটেজেও বিষয়টি দেখা যাবে।
ইনামুল হক সোহেল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মঞ্জিল মুরাদ লাভলু, সেক্রেটারি আহসানুল হাবিব মিলন, শাহীন পারভেজ, লায়ন জেবুননেছা জেবীন, লায়ন অন্দ্যি আউয়াল, আইপিপি লায়ন নাসরীন ববিসহ অন্যরা।
সানা/আপ্র/১২/১০/২০২৬