মো. আকরাম হোসেন: তথ্য অধিকার আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পৌরসভার আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়ায় ঘাটাইলের এক সাংবাদিককে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. মাহমাদুল হাসান ‘অফেন্সিভ মোডে’ যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আইনসম্মতভাবে তথ্য চাওয়ার বিষয়টিকে ইউএনও ‘ফাজলামি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন দৈনিক সমকালের ঘাটাইল প্রতিনিধি মাসুম মিয়া।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘাটাইল পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন দিয়ে তথ্যগুলো চান সাংবাদিক মাসুম মিয়া। আবেদনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পৌরকরের মোট আদায় ও ব্যয়ের খাত, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে পাওয়া ১ শতাংশ রাজস্বের আয়-ব্যয়, হাট-বাজারের খাস আদায়ের তথ্য এবং অটোরিকশা ও ভ্যানের লাইসেন্স ফি বাবদ আদায় করা অর্থের বিস্তারিত হিসাব চাওয়া হয়।
সাংবাদিক মাসুম মিয়ার দাবি, আবেদন জমা দেওয়ার পর ওই দিন দুপুরে ইউএনও তাকে মুঠোফোনে কল করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের কথোপকথনের বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ফোনে ইউএনও তাকে সরাসরি বলেন, “আপনি তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন। এটা ফাজলামি ছাড়া অন্য কিছু না। আপনি যদি অফেন্সিভ মোডে যান, আমি ইউএনও অফেন্সিভ মোডে যাব। আপনি কার কথা শুনে এ কাজ করতেছেন? এটা অফেন্সিভ মোড।”
তথ্য অধিকার আইনের আওতায় জনস্বার্থে এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মাসুম মিয়া বলেন, তথ্য পাওয়ার অধিকার শুধু সাংবাদিকের নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিকের। পৌরসভার রাজস্ব আদায় ও ব্যয়ের মতো বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্যই তিনি তথ্য চেয়েছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা এভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানোয় তিনি বিস্মিত হয়েছেন বলেও জানান।
ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, আইন মেনে তথ্য চাইতে গিয়ে যদি একজন সংবাদকর্মীকেই হুমকির মুখে পড়তে হয়, তাহলে সাধারণ নাগরিকরা সরকারি দপ্তরের কাছে তথ্য চাইতে কতটা উৎসাহিত হবেন?
অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মো. মাহমাদুল হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সানা/আপ্র/২৫/৯/২০২৬