নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকায় ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি কিশোর অপরাধী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে। পুলিশ বলছে, পুরোনো দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছে। নিহতের পরিবারও স্থানীয় একটি কিশোর অপরাধী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত বুলবুল আহমেদ (৩৫) শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে। ঘটনাস্থলটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ জানান, বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা পশ্চিম শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কিশোর অপরাধী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মুফতি মাছুম বিল্লাহর অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ওই ঘটনায় তিনি মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় একটি কিশোর অপরাধী দলের নেতা শেখ সিফাত ও তার দলের সদস্যদের আসামি করা হয়। সেই মামলার জেরেই বুলবুলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
মাছুম বিল্লাহ বলেন, এর আগেও শেখ সিফাত ও তার দলের সদস্যরা বুলবুলের ওপর হামলার চেষ্টা করেছিলেন। বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর কোনো কাজে পাশের সালেহনগর এলাকায় গেলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে বুলবুল গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুলবুলের ওপর হামলার ঘটনায় যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সেই শেখ সিফাত ওরফে ‘কাটা সিফাত’ শাহী মসজিদ এলাকার শেখ শাহীনের ছেলে। শেখ শাহীনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। সিফাত স্থানীয় একটি কিশোর অপরাধী দলের নেতৃত্ব দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সিফাত আগে বন্দরের যুবলীগ নেতা খান মাসুদের ঘনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। খান মাসুদের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খান মাসুদ আত্মগোপনে চলে গেলেও গত কয়েক মাসে সিফাত আবার প্রকাশ্যে এসে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তার দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে হামলা ও লুটপাটের একাধিক অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মুফতি মাছুম বিল্লাহ বলেন, সিফাতের দল আগে খান মাসুদের হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাত। গণঅভ্যুত্থানের পর তারা আত্মগোপনে গেলেও পরে আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। তিনি এ দলের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে শেখ সিফাতের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার পরিবারের এক সদস্যের মুঠোফোন নম্বরেও কল করে সাড়া পাওয়া যায়নি।
সানা/আপ্র/২১/৮/২০২৬