গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব এখন আর শুধু রান্নাঘর কিংবা সিএনজি স্টেশনে সীমাবদ্ধ নেই; শিল্পকারখানার উৎপাদনও থমকে যাচ্ছে। রাজধানীর বহু এলাকায় দিনের বড় সময় চুলায় গ্যাস মিলছে না, কোথাও আবার চাপ এতটাই কম যে রান্না শেষ করতে স্বাভাবিক সময়ের কয়েক গুণ বেশি লাগছে। গ্যাসের জন্য সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষার পাশাপাশি কারখানায় উৎপাদন কমে গেছে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। কোথাও আবার মেশিন পুরোপুরি বন্ধ।
এ অবস্থায় একদিকে গৃহস্থালির ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে শিল্পোদ্যোক্তাদের লোকসান ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। রান্নার জন্য অনেকে এলপিজি, ইনডাকশন চুলা কিংবা রাইস কুকারের দিকে ঝুঁকছেন। আবার শিল্পকারখানায় কেউ কাঠ পুড়িয়ে বয়লার চালানোর চেষ্টা করছেন, কেউ বাইরে থেকে গ্যাস কিনে উৎপাদন সচল রাখছেন। এতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়।
চুলায় আগুন নেই, বদলে গেছে ঘরের রুটিন
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এবং সরেজমিনে দেখে জানা গেছে, রাজধানীর মিরপুর, গেন্ডারিয়া, পুরান ঢাকা, রামপুরা, বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকটে রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও দিনের বড় একটি সময় গ্যাস থাকে না, আবার কোথাও সামান্য চাপ থাকলেও তাতে দুই চুলা একসঙ্গে জ্বালানো যাচ্ছে না।
মিরপুরের আমতলা এলাকার একটি টিনের ঘরে আট পরিবারের জন্য রয়েছে একটি রান্নাঘর। সেখানে দুটি চুলায় পালা করে রান্না করেন বাসিন্দারা। কিন্তু গ্যাসের চাপ এত কম যে একটি পরিবারের রান্না শেষ করতেই কয়েক ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। ফলে অন্য পরিবারগুলোর সদস্যদের রান্নার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
গৃহিণী শিরিন বেগম জানান, আগে সরাসরি চুলায় পানি-চাল দিয়ে ভাত রান্না করা গেলেও এখন আগে পানি গরম করে নিতে হয়। একটি পদ রান্না করতেই দীর্ঘ সময় চলে যাচ্ছে। একই এলাকার রেশমা বেগম জানান, ভোরে কাজে বের হওয়া নারীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। তাঁদের অনেককে ভোর চারটা থেকেই রান্না শুরু করতে হচ্ছে।
গ্যাসের সংকটে অনেক পরিবারকে রান্নার সময়ও বদলে ফেলতে হয়েছে। কারও সকালের নাশতা এখন দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে, কারও সন্তানকে স্কুলে টিফিনের বদলে টাকা দিয়ে পাঠাতে হচ্ছে। কেউ আবার রাতে গ্যাস এলে পরদিনের দুপুরের খাবার রান্না করে রাখছেন।
বনশ্রীর বাসিন্দা নাদিয়া আক্তারের সন্তান স্কুলে পড়ে। এত দিন তিনি প্রতিদিন সকালে সন্তানের টিফিন তৈরি করতেন। কিন্তু গ্যাস না থাকায় এখন কখনও সন্তানকে টিফিন ছাড়াই স্কুলে পাঠাতে হচ্ছে, আবার কখনও হাতে টাকা দিয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে বলছেন।
রামপুরার নিহার আহমেদের ভাষায়, গ্যাস না পেলেও গ্যাসের বিল দিতে হচ্ছে; তার ওপর রান্না না হওয়ায় খাবারও কিনতে হচ্ছে। ফলে একই পরিবারের ওপর পড়ছে দ্বিমুখী খরচের চাপ।
কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ইনডাকশন চুলা ও রাইস কুকার কিনেছেন। কিন্তু এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুতের বাড়তি ব্যয় ও লোডশেডিং। আবার কেউ এলপিজি কিনে রান্না চালাচ্ছেন। অর্থাৎ গ্যাসের সংকট সামাল দিতে গিয়ে পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয় আরো বাড়ছে।
সিএনজি স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা
গ্যাসের সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। মিরপুরের বিভিন্ন স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কোথাও গ্যাসের চাপ এত কম যে একটি গাড়িতে গ্যাস দিতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে। আবার কোথাও গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় স্টেশন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
মিরপুর সিরামিকস রিফুয়েলিং অ্যান্ড কনভারশন সেন্টারের ডিসপেনসার অপারেটর মোহাম্মদ আকাশ জানান, কয়েক দিন আগেও গ্যাসের চাপ ছিল ৮০ থেকে ৯০-এর মধ্যে; এখন সর্বোচ্চ পাওয়া যাচ্ছে ৭০। চাপ কম থাকায় একসঙ্গে দুটি গাড়িতে গ্যাস দিলে সরবরাহ আরো কমে যায়।
ব্যক্তিগত গাড়ির চালক নুরালী মোড়ল প্রায় দুই ঘণ্টা ৪০ মিনিট লাইনে অপেক্ষা করে মাত্র ১৭৮ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, কম চাপের গ্যাসে গাড়ির স্বাভাবিক দূরত্বও পাওয়া যাচ্ছে না।
যাত্রীবাহী বাসচালক মামুন মিয়ার ক্ষোভ আরো তীব্র। সাধারণত তাঁর বাসে দুই হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকার গ্যাস নেওয়া হলেও সংকটের মধ্যে একবারে মাত্র ২৬০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন—এত অল্প গ্যাস নিয়ে কীভাবে গাড়ি চালাবেন, আর কীভাবেই বা আয় করবেন?
মিরপুরের কয়েকটি সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকার পাশাপাশি আরেকটি স্টেশনে ৩৯টি ব্যক্তিগত গাড়ি ও ৪৩টি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে গ্যাসের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।
গ্যাসের অভাবে থমকে যাচ্ছে শিল্পের চাকা
গৃহস্থালির পাশাপাশি দেশের শিল্পাঞ্চলেও সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া, ময়মনসিংহের ভালুকাসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসনির্ভর কারখানার উৎপাদন কমেছে ব্যাপকভাবে।
কোথাও উৎপাদন স্বাভাবিক সক্ষমতার ২০ থেকে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে, কোথাও কমেছে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ। আবার কিছু কারখানায় মেশিন চালানোর মতো গ্যাসই মিলছে না। ফলে কোথাও শ্রমিকেরা কারখানায় এসেও কাজ না করে বসে থাকছেন, কোথাও তাঁদের ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে।
নরসিংদীর সদর, মাধবদী, চৌয়ালা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে ছোট-বড় চার হাজারের বেশি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০০ কারখানা সরাসরি গ্যাসনির্ভর বলে শিল্পোদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক সংকটে অনেক কারখানায় উৎপাদন ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। কোথাও তা নেমে এসেছে মাত্র ১০ শতাংশে।
চৌয়ালা শিল্প এলাকার মোমিন টেক্সটাইল মিলের ১০টি ইউনিটের সাতটিই গ্যাসের সংকটে বন্ধ। প্রতিদিন ২৫ লাখ গজ কাপড় উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা কারখানাটির উৎপাদন নেমে এসেছে কয়েক হাজার গজে। প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিকের মধ্যে দেড় হাজার এখন কার্যত কর্মহীন।
কয়েকটি কারখানা কাঠ পুড়িয়ে বয়লার চালিয়ে উৎপাদন ধরে রাখার চেষ্টা করছে। এতে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ না হলেও ব্যয় বেড়েছে। একটি কারখানায় শুধু কাঠের পেছনেই প্রতিদিন ১০ হাজার টাকার বেশি অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।
আশুলিয়া-নারায়ণগঞ্জেও ভয়াবহ পরিস্থিতি
সাভার-আশুলিয়ার কাঠগড়া-আমতলা এলাকায় ফ্যাশন গ্লোব গ্রুপের একটি কারখানা কয়েক সপ্তাহ কম সক্ষমতায় চলার পর বন্ধ হয়ে গেছে। দৈনিক ৫০ হাজার পিস উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা কারখানাটি গ্যাস সংকটের মধ্যে সর্বোচ্চ ২০ হাজার পিস উৎপাদন করতে পেরেছে।
স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য যেখানে প্রায় ১০ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন, সেখানে চাপ শূন্য থেকে ২ দশমিক ৫ পিএসআইয়ের মধ্যে ওঠানামা করছে। বাইরে থেকে গ্যাস এনে উৎপাদন চালানোর চেষ্টা করলেও প্রতি ঘণ্টায় অতিরিক্ত প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।
আশুলিয়ার আরেকটি টেক্সটাইল কারখানা প্রায় ১৫ দিন ধরে বন্ধ। উদ্যোক্তার হিসাবে, এতে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। একটি ডাইং কারখানায় দৈনিক ৯০ টন উৎপাদন সক্ষমতার বিপরীতে দুই টনও উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। সেখানে প্রায় ৯৭৫ শ্রমিক কর্মরত।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বিসিক শিল্প এলাকাতেও ডাইং, ফিনিশিং ও টেক্সটাইল কারখানাগুলো গ্যাসের চাপের কারণে স্বাভাবিকভাবে চলতে পারছে না। খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, অন্তত ১৫২টি কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
গাজীপুরের মাওনা এলাকায় আর্টিসান সিরামিকসের উৎপাদনও সক্ষমতার মাত্র এক-চতুর্থাংশে নেমেছে। দিনে ২২ হাজার পিস তৈজসপত্র উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ছয় হাজার পিস। কিছু ক্রয়াদেশ ইতোমধ্যে স্থগিত হয়েছে।
রপ্তানি ও কর্মসংস্থানেও বাড়ছে ঝুঁকি
গ্যাস সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে সুতা, কাপড়, ডাইং ও ফিনিশিংয়ের মতো শিল্পে। এসব খাতে বয়লার, স্টিম ও তাপভিত্তিক উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস প্রয়োজন। ফলে এসব কারখানা বন্ধ হলে তার প্রভাব সরাসরি তৈরি পোশাকশিল্পের সরবরাহব্যবস্থায় গিয়ে পড়ে।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গ্যাস সংকট এখন শিল্পের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকের বেতন, ব্যাংকঋণের কিস্তি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খরচ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। সংকট দীর্ঘ হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিক ধরে রাখার সক্ষমতা কমে যেতে পারে।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেলও সতর্ক করে বলেছেন, গ্যাসের অভাবে ডাইং, ফিনিশিং, নিটিং ও টেক্সটাইল কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হলে তার প্রভাব পুরো পোশাকশিল্পের সরবরাহব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো রপ্তানি আদেশ পূরণ করা কঠিন হলে বিদেশি ক্রেতারা বিকল্প দেশ বেছে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
শিল্পোদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, সংকট দীর্ঘ হলে উৎপাদন কমার পর প্রথমে শিফট কমানো, এরপর শ্রমিকদের ছুটিতে পাঠানো এবং শেষ পর্যন্ত জনবল কমানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব শুধু কারখানার শ্রমিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পরিবহন, দোকান, খাবারের ব্যবসা, বাসাভাড়া ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও তা পড়বে।
সরবরাহে বড় ঘাটতি, চাপে বিদ্যুৎ উৎপাদনও
তিতাস গ্যাসের অধীন এলাকায় দৈনিক গ্যাসের চাহিদা এক হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি। এলএনজি-সংকটের আগে সেখানে প্রায় এক হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হলেও এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পর তা কমে প্রায় এক হাজার ৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
ঢাকায় তিতাসের সরবরাহও কমেছে। আগে যেখানে ১৬০ থেকে ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট দেওয়া হতো, এখন তা নেমেছে ১১৮ থেকে ১১৯ মিলিয়ন ঘনফুটে।
২০ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার হিসাবে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে সরবরাহ ছিল দুই হাজার ১৯৬ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে এক হাজার ৬২৬ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ ঘাটতি প্রায় এক হাজার ৮০৪ মিলিয়ন ঘনফুট, যা মোট চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশ।
গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক গ্যাসের প্রয়োজন প্রায় এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ কমে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে।
ফলে গ্যাসের ঘাটতি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমছে, আর বিদ্যুৎ না থাকায় শিল্পকারখানাকে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় আরো বাড়ছে। অর্থাৎ জ্বালানি সংকটের এক অংশ অন্য অংশকে আরো তীব্র করে তুলছে।
এলএনজি-নির্ভরতার দুর্বলতাও স্পষ্ট
সাম্প্রতিক সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা ও কার্গো-সংকট হলেও এর পেছনে দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতাও রয়েছে। দেশের পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ধীরে ধীরে কমছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র ও কূপ থেকে পর্যাপ্ত উৎপাদন যুক্ত না হওয়ায় আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।
একটি টার্মিনাল বন্ধ হলেই জাতীয় গ্যাস সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হওয়া সেই নির্ভরতার ঝুঁকিই সামনে এনেছে।
শিল্পোদ্যোক্তাদের দাবি, সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি গ্যাস কখন এবং কতক্ষণ পাওয়া যাবে—তার একটি পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি দেওয়া দরকার। এতে কারখানাগুলো উৎপাদন পরিকল্পনা করতে পারবে।
স্বল্পমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল দ্রুত সচল করা, আমদানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং গ্যাস বণ্টনে অগ্রাধিকার নির্ধারণ জরুরি। দীর্ঘমেয়াদে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান, নতুন কূপ খনন, পুরোনো গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন বাড়ানো এবং ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনার উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ রয়েছে।
কারণ বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—গ্যাসের অভাব শুধু চুলার আগুন নিভিয়ে দেয় না; তা থামিয়ে দিতে পারে কারখানার মেশিন, কমিয়ে দিতে পারে রপ্তানি, বাড়িয়ে দিতে পারে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শেষ পর্যন্ত হুমকিতে ফেলতে পারে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান।
সানা/আপ্র/২১/৮/২০২৬