গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

মেনু

ইনফান্তিনোকে সরাতে ১০৬ ভোটই কি যথেষ্ট?

ক্রীড়া ডেস্ক

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৪৭ পিএম, ২১ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৮ এএম ২০২৬
ইনফান্তিনোকে সরাতে ১০৬ ভোটই কি যথেষ্ট?
ছবি

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগের অংশীদারত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর ও মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল কর্তাদের সমালোচনা এবং ফিফার ভেতরের কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার আস্থা হারানোর পর তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরো জোরালো হয়েছে। আগামী বছরের সভাপতি নির্বাচন সামনে থাকলেও তার আগেই অনাস্থা ভোটে তাঁকে সরানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ফিফার ২১১ সদস্যের মধ্যে ২০ শতাংশ, অর্থাৎ অন্তত ৪৩টি সদস্য দেশের লিখিত অনুরোধে বিশেষ কংগ্রেস ডাকার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে ৪৩টি দেশের সমর্থন হলো অনাস্থা ভোট আয়োজনের দরজা খোলার সংখ্যা; ইনফান্তিনোকে পদচ্যুত করার জন্য প্রয়োজনীয় ভোটের সংখ্যা আলাদা।

বিশেষ কংগ্রেস ডাকতে লাগবে ৪৩ দেশের আবেদন
ফিফার বিধি অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর অন্তত ২০ শতাংশ লিখিতভাবে অনুরোধ জানালে কাউন্সিলকে বিশেষ কংগ্রেস ডাকতে হবে। ২১১ সদস্যের হিসাবে এই সংখ্যা ৪৩। আবেদন পাওয়ার পর সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে বিশেষ কংগ্রেস আয়োজনের বিধান রয়েছে।

কোনো একক দেশ একাই এই প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে না। তবে কোনো একটি কনফেডারেশনের সদস্য দেশগুলো সম্মিলিতভাবে ৪৩টির সীমা পূরণ করতে পারে। উয়েফার ৫৫ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের ৪৭ সদস্য থাকায়, তাত্ত্বিকভাবে যেকোনো একটি কনফেডারেশন থেকেই প্রয়োজনীয় আবেদন সংগ্রহ করা সম্ভব।

ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন ও উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল কনফেডারেশন প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছে। বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা বাতিলের পর তিন কনফেডারেশনই ফিফার নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

অনাস্থা ভোটে প্রতিটি দেশের মূল্য সমান
বিশেষ কংগ্রেস বসলে ফিফার প্রতিটি সদস্য দেশের একটি করে ভোট থাকবে। অর্থাৎ বড় ফুটবল দেশ কিংবা ছোট সদস্য—সবার ভোটের ওজন সমান।

ফিফার বিধি অনুযায়ী, ভোট সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে সদস্যদের ভোট ব্যক্তিগতভাবে প্রয়োগ করতে হয়। অন্য সদস্যের হয়ে ভোট দেওয়া বা চিঠির মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই।

ইনফান্তিনোকে সরাতে কত ভোট লাগবে

এখানেই তৈরি হয়েছে মূল প্রশ্ন। ফিফার সংবিধানে সভাপতির নির্বাচনের জন্য আলাদা সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিধান থাকলেও সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটে ঠিক কত ভোট লাগবে, তা পৃথকভাবে স্পষ্ট করে বলা নেই।

তবে ফিফার সংবিধানের সাধারণ বিধান অনুযায়ী, আলাদা কোনো নিয়ম না থাকলে ভোটে দেওয়া বৈধ ভোটের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা—অর্থাৎ ৫০ শতাংশের বেশি—যথেষ্ট। সেই হিসাবে ২১১ সদস্যের সবাই ভোট দিলে ইনফান্তিনোকে সরাতে ১০৬টি বৈধ ভোট প্রয়োজন হতে পারে। তবে প্রকৃত প্রয়োজনীয় সংখ্যা উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যের সংখ্যার ওপর নির্ভর করতে পারে।

অর্থাৎ ৪৩টি দেশ অনাস্থা ভোট আয়োজনের উদ্যোগ নিতে পারলেও ইনফান্তিনোকে পদ থেকে সরাতে তার চেয়ে অনেক বেশি সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে প্রকাশ্য বিরোধিতার হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ। উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন ও উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল কনফেডারেশনের মোট ১৩৬ সদস্য রয়েছে। তবে এই ১৩৬টি দেশ সবাই অনাস্থা ভোটে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ভোট দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

পদ ছাড়লে দায়িত্ব নেবেন সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি
ফিফার বিধি অনুযায়ী, সভাপতি স্থায়ী বা সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে সবচেয়ে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী সহসভাপতি সভাপতির দায়িত্ব ও ক্ষমতা গ্রহণ করবেন। নতুন সভাপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।

বর্তমান সহসভাপতিদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘদিন ফিফা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাহরাইনের শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা। তিনি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।

ব্ল্যাটারের সময়েও উঠেছিল অনাস্থার দাবি
ফিফার দায়িত্বশীল কোনো সভাপতিকে আনুষ্ঠানিক অনাস্থা ভোটে সরিয়ে দেওয়ার নজির নেই। তবে ২০০১ ও ২০০২ সালে তৎকালীন সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের আলোচনা হয়েছিল।

২০০১ সালে ফিফার বিপণন অংশীদার আইএসএল ভেঙে পড়া এবং সংস্থার পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ব্ল্যাটারের নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে। তৎকালীন উয়েফা সভাপতি লেনার্ট ইয়োহানসন প্রকাশ্যে অনাস্থা প্রস্তাবের সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। ব্ল্যাটারকে বিশেষ নির্বাহী কমিটির বৈঠকেও কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অনাস্থা ভোট হয়নি।

পরের বছর ফিফার মহাসচিব মিশেল জেন-রুফিনেনকে ঘিরে বিরোধের সময়ও ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে অনাস্থার দাবি ওঠে। সেবারও তা আনুষ্ঠানিক কংগ্রেস ভোটে গড়ায়নি।

নির্বাচনের আগেই বড় পরীক্ষার মুখে ইনফান্তিনো

ইনফান্তিনো ২০২৭ সালের মার্চে পরবর্তী ফিফা সভাপতি নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যেই তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে আঞ্চলিক কনফেডারেশনগুলোর বিরোধিতা এবং ফিফার ভেতরে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

ফলে এখন সমীকরণটি মূলত দুই ধাপের—প্রথমে অন্তত ৪৩ সদস্য দেশের উদ্যোগে বিশেষ কংগ্রেসের পথ তৈরি করা, এরপর অনাস্থা প্রস্তাব পাসের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা। প্রথম ধাপ তুলনামূলক সহজ হলেও দ্বিতীয় ধাপেই নির্ধারিত হবে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব টিকে থাকবে, নাকি ফিফার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দায়িত্বশীল সভাপতি অনাস্থা ভোটে সরে দাঁড়াবেন। সূত্র: রয়টার্স
সানা/আপ্র/২১/৮/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখতে যে পরিকল্পনা সিমন্সের
২০ আগস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখতে যে পরিকল্পনা সিমন্সের

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক সেই জয়ের রেশ কাটতে না কাটত...

এ বছর হচ্ছে না বিপিএল, নতুনভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা বিসিবির
২০ আগস্ট ২০২৬

এ বছর হচ্ছে না বিপিএল, নতুনভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা বিসিবির

চলতি বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসি...

রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ প্রতিভাকে নিয়ে স্পেন-আর্জেন্টিনার লড়াই
২০ আগস্ট ২০২৬

রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ প্রতিভাকে নিয়ে স্পেন-আর্জেন্টিনার লড়াই

ইউরোপে জন্ম নেওয়া বা বেড়ে ওঠা প্রতিভাবান ফুটবলারদের দলে ভেড়ানো নিয়ে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার লড়...

মাহিদুল-আমিনুল-নাঈমের দৃঢ়তায় হার এড়াল ইমার্জিং দল
২০ আগস্ট ২০২৬

মাহিদুল-আমিনুল-নাঈমের দৃঢ়তায় হার এড়াল ইমার্জিং দল

পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে চৌধুরি মোহাম্মদ রিজওয়ান ফেরার সময় বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ছিল টালমাটাল অবস্থায়...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬ শতাংশ, সরকারের প্রতি ৫৪ শতাংশ

সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে পরিচালিত এক জনমত জরিপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, প্রধানমন্ত্রী ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ৫৪ দশমিক ৫০ শতাংশ মানুষ। সরকারের কর্মকাণ্ডকে খারাপ বলেছেন ৩২ দশমিক ৯০ শতাংশ। ডপলার অপিনিয়ন রিসার্চের ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই জরিপে সরকারের সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে