ইউরোপ সফরে গিয়ে ইতালির রাজধানী রোমে কনসার্ট করার পর নতুন এক বিতর্কে জড়িয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় রকশিল্পী জেমস। হোটেলের একটি কক্ষ অপরিচ্ছন্ন করে রেখে যাওয়ার অভিযোগে তাঁকে ২০০ ইউরো জরিমানা করা হয়েছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও বিষয়টি পুরোপুরি ভিন্ন বলে জানিয়েছেন জেমসের মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন।
‘নগরবাউল’ জেমস গত ২৫ জুলাই লন্ডনে কনসার্টের মধ্য দিয়ে ইউরোপ সফর শুরু করেন। সফরের অংশ হিসেবে ১৬ আগস্ট ইতালির রোমে কনসার্ট করেন তিনি। প্রায় এক যুগ পর রোমের মঞ্চে জেমসের এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।
কনসার্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেমসকে ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে ইতালিতে চাঁদা দাবির মতো অভিযোগের পাশাপাশি হোটেলের কক্ষ নোংরা করে রেখে যাওয়ার অভিযোগও ছড়িয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে একটি হোটেলকক্ষের মেঝেতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পানির বোতল ও বিভিন্ন আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। কক্ষের খাবার টেবিলে ব্যবহৃত প্লেট, পলিথিনের ব্যাগ ও খাবারের উচ্ছিষ্ট এবং রান্নাঘরের সিঙ্কে নোংরা থালা-বাসনের সঙ্গে কাঁচা ডিম পড়ে থাকার দৃশ্যও দেখা যায়।
এরপর দাবি করা হয়, ওই কক্ষের অপরিচ্ছন্নতার জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষ জেমসকে ২০০ ইউরো জরিমানা করেছে। তবে জেমসের মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন বলছেন, অভিযোগটি জেমসকে ঘিরে ছড়ানো হলেও সংশ্লিষ্ট কক্ষটিতে তিনি ছিলেনই না।
‘অভিযোগের কক্ষটিতে জেমস ছিলেন না’
রবিন বলেন, তাঁদের দলের জন্য হোটেলে মোট চারটি কক্ষ নেওয়া হয়েছিল। জেমস ছিলেন ৩৪৫ নম্বর কক্ষে এবং তিনি নিজে ছিলেন ২৪৬ নম্বর কক্ষে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ৫৪৯ নম্বর কক্ষের ছবি ছড়িয়েছে, সেখানে ছিলেন দলের বাইরের একজন অতিথি সংগীতশিল্পী।
তাঁর ভাষ্য, ওই সংগীতশিল্পী ‘নগরবাউল’ দলের সদস্য নন। কনসার্টে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁকে অতিথি শিল্পী হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। ফলে তাঁর ব্যবহৃত কক্ষের পরিস্থিতির দায় জেমসের ওপর চাপানো ঠিক নয়।
রবিন আরও দাবি করেন, হোটেল কর্তৃপক্ষ সরাসরি জেমসকে জরিমানা করেনি। বরং হোটেল বুকিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।
আয়োজকের দিকে অভিযোগের তীর
জেমসের মুখপাত্র এ ঘটনায় কনসার্টের আয়োজকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, আবুল মুয়াজ নামের একজন কনসার্টটি আয়োজন করেন। এর আগেও তিনি বাংলাদেশ থেকে শিল্পী নিয়ে ইতালিতে কনসার্ট আয়োজন করেছেন এবং সেসব আয়োজন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন রবিন।
তিনি বলেন, প্রতিটি কনসার্টের মতো এবারও আয়োজকদের সঙ্গে তাদের লিখিত চুক্তি ছিল। চুক্তির কোনো শর্ত ভঙ্গ হয়ে থাকলে আয়োজকেরা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। কিন্তু সেটিকে জেমসের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়া অনুচিত।
রবিন বলেন, জেমস ও তাঁর দল বর্তমানে ইতালিতেই রয়েছেন এবং তাঁরা কোনোভাবেই দেশটির বাইরে যাননি। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ইউরোপ সফর শেষ করে দেশে ফেরার কথা রয়েছে জেমসের।
এদিকে হোটেলের কক্ষ অপরিচ্ছন্ন রাখার অভিযোগ কিংবা ২০০ ইউরো জরিমানার দাবির বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সানা/আপ্র/২১/৮/২০২৬