গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মেনু

২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার

সাবেক মন্ত্রী জাবেদ ও স্ত্রীর বিচার শুরুর আদেশ

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫৪ পিএম, ১১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২২:৩৬ এএম ২০২৬
সাবেক মন্ত্রী জাবেদ ও স্ত্রীর বিচার শুরুর আদেশ
ছবি

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামান -ছবি সংগৃহীত

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড-ইউসিবিএলের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাত ও পাচারের মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার (১১ মার্চ) চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান বুধবার জাবেদ-রুকমিলা দম্পতিসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য ৫ এপ্রিল দিন ঠিক করে দেন।

দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসাইন বলেন, সাবেক ভূমিমন্ত্রী এবং তার স্ত্রীসহ ৩৬ আসামির সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। মামলার ৮ জন আসামি আজ উপস্থিত ছিলেন। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পারোয়ানা জারি করা হয়েছে।

জাবেদ-রুকমিলা দম্পতির বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও তারা দুজনেই বিদেশে আছেন বলে খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে। গেল বছর সেপ্টেম্বরে তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করার আদেশ দিয়েছে আদালত।

গেল ৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. হাসানুল ইসলাম অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের এ মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। তার আগে ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান।

মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন জাবেদের ছোট ভাই আসিফুজ্জামান, বোন রোকসানা জামান এবং ইউসিবিএল ও আরামিট গ্রুপের কয়েকজন কর্মকর্তা। সাবেক মন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে এটা দুদকের দেওয়া ‘প্রথম’ অভিযোগপত্র বলে জানিয়েছিলেন সংস্থার আরেক আইনজীবী রেজাউল করিম রনি।

গত ২৪ জুলাই জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে-১ মামলাটি করেছিলেন। ৩১ আসামির মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল আওয়াল ও জাবেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কাজী মো. দিলোদার নামে দুইজন মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে সুপারিশ করেছেন।
তদন্তে আরো সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় তাদের অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে ইউসিবিএল ও জাবেদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীরকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে মিথ্যা তথ্যে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। সেটি দিয়ে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ইউসিবিএল ব্যাংকের চট্টগ্রামের পোর্ট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়। পরের বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির কথা বলে ১৮০ দিনের জন্য ‘টাইম লোনের’ আবেদন করেন।

নেতিবাচক প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই না করে ঋণ অনুমোদন করে। ঋণের টাকা ‘নাম সর্বস্ব’ চারটি প্রতিষ্ঠান আলফা ট্রেডার্স, ক্লাসিক ট্রেডার্স, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামে চারটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসেবে পে অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। পরে সে টাকা নগদে উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে এসব টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি ক্রয় এবং জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালমুনিয়াম লিমিটেডের হিসাবে জমা করে দায় সমন্বয় করা হয়।
২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি ও মানিলোন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে ৩০টি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ভুয়া কোম্পানি দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ নিয়ে সেই অর্থ বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আরামিট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট পিএলসির নামে ঋণ নিয়ে সেই অর্থ ‘ভুয়া’ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার তথ্য দেখিয়ে মোট ১৪১ কোটি ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এই ভূমিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আরো তিনটি মামলার করবে বলেছে দুদক। জাবেদ ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে তার বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ ওঠে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য এবং কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে রাষ্ট্রের তিনটি সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে জাবেদ ও তার স্ত্রীর নামে যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে নয়টি সম্পত্তিসহ অন্যান্য দেশে স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া দেশেও তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ এসেছে।
সানা/আপ্র/১১/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিদেশে অর্থ পাচারকারী ছয়টি বড় গ্রুপ বাংলাদেশ ব্যাংকের টার্গেটে
১১ মার্চ ২০২৬

বিদেশে অর্থ পাচারকারী ছয়টি বড় গ্রুপ বাংলাদেশ ব্যাংকের টার্গেটে

বিদেশে পাচার হওয়া ঋণের অর্থ উদ্ধারের কার্যক্রমে কৌশলগতভাবে প্রথম ধাপে দেশের ছয়টি বড় গ্রুপকে চিহ্নিত...

দাপটেই চলছেন ডিপিডিসির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা
১১ মার্চ ২০২৬

দাপটেই চলছেন ডিপিডিসির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা

রাষ্ট্রীয় অর্থের ওপর যেন রাক্ষুসে থাবা বসিয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) একটি প...

লঞ্চের কেবিনে ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ
১০ মার্চ ২০২৬

লঞ্চের কেবিনে ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাওয়া ফারহা...

ঢাকায় বিপুল পরিমাণ মাথার খুলি, হাড়-কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেফতার ৪
১০ মার্চ ২০২৬

ঢাকায় বিপুল পরিমাণ মাথার খুলি, হাড়-কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেফতার ৪

রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে মানুষের ৪৭টি মাথার খুলি ও বিপুল পরিমাণ হাড়-কঙ্কাল উদ্ধারসহ চোর চক্রের চার সদ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই