গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

মেনু

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের, বাজার তদারকিতে নতুন চাপ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:৩৪ পিএম, ২৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৬:২২ এএম ২০২৬
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের, বাজার তদারকিতে নতুন চাপ
ছবি

ফাইল ছবি

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে যেসব টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে বা ভবিষ্যতে পাওয়া যেতে পারে, সেগুলোর আমদানি, উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক জনস্বার্থে দায়ের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেয়।

১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন: আদালত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, কমিটিতে থাকতে হবে—

* বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একজন বিশেষজ্ঞ,

* বাংলাদেশ বিজ্ঞান গবেষণাগারের (সায়েন্স ল্যাবরেটরি) একজন বিশেষজ্ঞ,

* এবং বিএসটিআইয়ের একজন বিশেষজ্ঞ।

এই কমিটিকে বাজারে বিক্রি হওয়া সংশ্লিষ্ট টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা, মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ও মাত্রা নির্ধারণ, সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা সম্পর্কে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।

যে তথ্য প্রকাশের পর শুরু হয় বিতর্ক
সম্প্রতি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণায় কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থা দেশের বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টি ব্র্যান্ডে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির দাবি করে। সংস্থাটি জানায়, পরীক্ষিত নমুনাগুলোর মধ্যে কিছুতে প্লাস্টিকজাত ক্ষুদ্র কণার পরিমাণ উদ্বেগজনক মাত্রায় ছিল।

তাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, টুথপেস্টে ব্যবহৃত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা দাঁত পরিষ্কারের উপাদান হিসেবে বা অন্যান্য রাসায়নিক উপাদানের বাহক হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। এসব কণা মুখগহ্বরের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

সংস্থাটির ওই তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভোক্তা অধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বিষয়টি দ্রুত তদন্তের দাবি জানায়।

কী জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট

রুলে আদালত জানতে চেয়েছে—

* মাইক্রোপ্লাস্টিকযুক্ত টুথপেস্টের আমদানি, উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না;

* বাংলাদেশে বাজারজাত বা আমদানি করা যেসব টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে বা পাওয়া যায়, সেগুলো কেন বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হবে না;

* এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেবে না।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেন। আবেদনের পক্ষে তিনিই শুনানি করেন।

মাইক্রোপ্লাস্টিক কেন উদ্বেগের বিষয়
মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো পাঁচ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমুদ্র, নদী, বাতাস, খাদ্য এবং পানীয় জলে এসব কণার উপস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় মানব রক্ত, ফুসফুস, প্লাসেন্টা ও অন্যান্য টিস্যুতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টুথপেস্টে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বা কাঁচামালের মাধ্যমে প্লাস্টিক কণা যুক্ত হয়ে থাকে, তবে তা নিয়মিত ব্যবহারের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। যদিও এর সরাসরি স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন, তবুও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।

বিএসটিআই ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা
টুথপেস্টসহ প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বিএসটিআই এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়। আদালতের নির্দেশনার ফলে এখন বাজার তদারকি, নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগার সক্ষমতা এবং আমদানিকৃত কাঁচামালের মান যাচাইয়ের বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু তদন্ত প্রতিবেদনই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের তালিকা প্রকাশ, বাজার থেকে প্রত্যাহার, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা প্রয়োজন।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হাইকোর্টের এ ধরনের হস্তক্ষেপ প্রশাসনিক সংস্থাগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার পর পরবর্তী শুনানিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আসতে পারে।

এদিকে বাজারে প্রচলিত টুথপেস্ট নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। তাই বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈজ্ঞানিক তদন্ত প্রতিবেদনই এ বিষয়ে পরবর্তী সরকারি পদক্ষেপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।
সানা/আপ্র/২৮/৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

সম্পদের হিসাব গোপন: সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড
২৮ জুলাই ২০২৬

সম্পদের হিসাব গোপন: সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড

সম্পদের হিসাব বিবরণী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা না দেওয়ার দায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর...

বিয়ের প্রলোভনে আটকে রেখে ধর্ষণ, তরুণী হত্যার অভিযোগে মামলা
২৮ জুলাই ২০২৬

বিয়ের প্রলোভনে আটকে রেখে ধর্ষণ, তরুণী হত্যার অভিযোগে মামলা

রাজধানীর আদাবরে এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভনে চার দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে ফটোগ্রাফার নাম...

হাইকোর্টে একদিনে ৭ হাজার ৮৫৩ মামলা নিষ্পত্তির রেকর্ড
২৮ জুলাই ২০২৬

হাইকোর্টে একদিনে ৭ হাজার ৮৫৩ মামলা নিষ্পত্তির রেকর্ড

এক দিনেই ৭ হাজার ৮৫৩টি পুরোনো ‘ক্রিমিনাল মিস’ মামলা নিষ্পত্তি করে নতুন রেকর্ড গড়েছে হাইকোর্টের ১০টি...

২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট
২৭ জুলাই ২০২৬

২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে এমন ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতে ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটন...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই