গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মেনু

পত্রিকা বিক্রি করেই চলে নার্গিসের জীবন

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:০২ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২১:৩৫ এএম ২০২৬
পত্রিকা বিক্রি করেই চলে নার্গিসের জীবন
ছবি

ছবি সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে পায়ে হেঁটে সংবাদপত্র বিক্রি করছেন পঞ্চাশ-ঊর্ধ্ব নার্গিস খাতুন। এক সময় সামাজিক প্রতিকূলতা আর পারিবারিক অবহেলার শিকার এই নারী আজ স্বনির্ভরতার এক অনন্য প্রতীক। প্রতিকূল জীবনকে জয় করে হকার হিসেবে পত্রিকা বিক্রি করেই তিনি নিজের থাকার আবাসন গড়েছেন, সচল রাখছেন সংসারের চাকা।

কাজিপুর উপজেলার পাঁচগাছি গ্রামের আব্বাস আলীর মেয়ে নার্গিসের জীবনসংগ্রাম শুরু হয় নব্বইয়ের দশকের শুরুতে। কিশোরী বয়সে বিয়ে হলেও সতীনের সংসারে বনিবনা না হওয়ায় ১৯৯০ সালে বিচ্ছেদ ঘটে। কোলে শিশু সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিতে চাইলেও ভাইদের আপত্তিতে সেখানে জায়গা হয়নি তার। ঘোর সংকটে পড়া নার্গিস তখন অন্যের করুণার ওপর নির্ভর না করে বেছে নেন সংবাদপত্র বিক্রির মতো চ্যালেঞ্জিং পেশা। শুরুতে প্রতিকূলতা থাকলেও হার মানেননি তিনি। বর্তমানে প্রতিদিন দেড় থেকে দুইশ কপি পত্রিকা বিক্রি করেন। সকাল হলেই কাজিপুরের অলিতে-গলিতে খবরের কাগজ হাতে ঘুরে বেড়ান এই সংগ্রামী নারী। দীর্ঘদিনের এই আয়ে কোনোমতে সংসার চালানোর পাশাপাশি সঞ্চয় করা অর্থ দিয়ে গ্রামে ৫ শতক জমি কিনে নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছেন তিনি। বর্তমানে ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনিকে নিয়ে তার পরিবার।

পত্রিকা বিক্রির আগে অন্যের বাড়িতে কাজ করা এবং কাঁথা সেলাইয়ের চেষ্টা করেছিলেন নার্গিস। তবে শ্রমের সঠিক মজুরি না পাওয়ায় তিনি স্বাধীন এই পেশায় থিতু হন। বয়স বাড়ার কারণে আগের মতো শারীরিক শক্তি না থাকলেও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন কয়েক মাইল পথ পাড়ি দেন তিনি। আত্মপ্রত্যয়ী এই নারী জীবনের শেষদিন পর্যন্ত এই পেশাতেই থাকতে চান।

নার্গিস খাতুন বলেন, ‘স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কারো ওপর বোঝা হতে চাইনি। মজুরি বৈষম্যের কারণে আগের কাজ ছেড়ে কাগজ বিক্রি শুরু করি। এখন বয়স হয়েছে, আগের মতো হাঁটতে কষ্ট হয়, তবু পেটের দায়ে কাজ করছি।’

নার্গিস খাতুন যখন পত্রিকা বিক্রি শুরু করেন, তখন নারী হকার হিসেবে কাজ করা সামাজিকভাবে বেশ কঠিন ছিল। নারীদের ঘরবন্দি থাকার মানসিকতার বিপরীতে গিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে ধৈর্য এবং পরিশ্রম থাকলে একজন নারীও আত্মনির্ভরশীল হতে পারেন। কাজিপুর এলাকার মানুষের কাছে তিনি এখন পরিশ্রমী ও সংগ্রামী মানুষের এক অনুপ্রেরণার নাম।

কেএমএএ/আপ্র/২৯.০৭.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

বাধার প্রাচীর ভেঙে বিউটি পালের সংস্কৃতি চেতনায় আঘাতের প্রতিবাদ
২৯ জুলাই ২০২৬

বাধার প্রাচীর ভেঙে বিউটি পালের সংস্কৃতি চেতনায় আঘাতের প্রতিবাদ

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাধাগ্রস্ত হওয়া, শিল্পীদের অনুষ্ঠান নিয়...

শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দেশের ভবিষ্যৎ
২৯ জুলাই ২০২৬

শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দেশের ভবিষ্যৎ

প্রত্যেক শিশুর জন্মের সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্নেরও জন্ম হয়। ওই স্বপ্নে থাকে শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠা,...

পরিশ্রমী, বিশ্বাসী হয়েও আদিবাসী নারীরা ন্যায্য মজুরিবঞ্চিত
২৯ জুলাই ২০২৬

পরিশ্রমী, বিশ্বাসী হয়েও আদিবাসী নারীরা ন্যায্য মজুরিবঞ্চিত

শ্রমবাজারে নারীর প্রসঙ্গ এলেই আমাদের চোখের সামনে প্রথমে ভেসে ওঠে সকালবেলা রাস্তায় সারি বেঁধে হেঁটে য...

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বপ্নের বাগানের নাম ‘গুলবাগিচা’
২৯ জুলাই ২০২৬

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বপ্নের বাগানের নাম ‘গুলবাগিচা’

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রাম। দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে নিত্য বসবাস এ গ্...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শিল্পী বললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ এখন প্রতিবাদের ভাষা

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে গানটি সিলেটের এক শিক্ষিকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। গানটির গায়ক মেজবাহ রহমান বলেন, “আমাদের এই গানটি যে অন্যায্য সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক আন্দোলনের ভাষা হয়ে উঠবে, তা কখনো ভাবিনি। গানটি মূলত প্রকৃতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এখন এটি অনেকের কাছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন গানটি সত্যিই প্রতিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 20 ঘন্টা আগে