গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মেনু

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বপ্নের বাগানের নাম ‘গুলবাগিচা’

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:০০ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২১:৩৮ এএম ২০২৬
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বপ্নের বাগানের নাম ‘গুলবাগিচা’
ছবি

ছবি সংগৃহীত

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রাম। দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে নিত্য বসবাস এ গ্রামের মানুষদের। অভাবের তাড়নায় যেখানে দুবেলা দুমুঠো খাবার জোটানোই দায়, সেখানে শিশুদের পড়ালেখা তো এক রকম বিলাসিতা! এই অভাবী জনপদেরই পাঁচ বছর বয়সী ছোট্ট শিশু মাইমুনার চোখে-মুখে এখন রাজ্যের উচ্ছ্বাস। প্রতিদিন সকালে সে বইখাতা বুকে চেপে ছুটে যায় এক স্বপ্নের ঠিকানায়। সেখানে শুধু বর্ণমালা শেখানো হয় না, পরম মমতায় তার হাতে তুলে দেওয়া হয় পুষ্টিকর খাবার। মাইমুনার এই স্বপ্নের বাগানের নাম ‘গুলবাগিচা’।

উচ্ছ্বসিত মাইমুনার ভাষায়- ‘ম্যাডাম আমাদের খুব আদর করে পড়ায়। প্রতিদিন ডিম, দুধ, কলা খেতে দেয়। আমার স্কুলে যেতে খুব ভালো লাগে।’

মাইমুনার মতো হাজারো সুবিধাবঞ্চিত শিশুর জীবনে এমন আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করেছে সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট-সিজেডএমের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র ‘গুলবাগিচা’।

একটি বাগান বা বাগিচায় যেমন সঠিক আলো, বাতাস ও পরিচর্যা পেলে একটি মৃতপ্রায় গাছও সতেজ হয়ে ফুল ফোটায়, ঠিক তেমনি সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের জীবনে শিক্ষা, পুষ্টি ও স্নেহের পরশ বুলিয়ে তাদের প্রস্ফুটিত করার লক্ষ্যেই প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘গুলবাগিচা’।

গুলবাগিচার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর সমন্বিত উন্নয়ন ভাবনা। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের স্কুলে পাঠাতে অভিভাবকদের যেন কোনো বেগ পেতে না হয়, এ জন্য এখানে শিক্ষা উপকরণ, পোশাক, প্রতিদিনের পুষ্টিকর খাবার এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। ফলে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা যেমন শারীরিক ও মানসিকভাবে সবল হয়ে ওঠে, তেমনি তাদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হারও থাকে শতভাগ। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ শেখানোর ওপরও এখানে বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

চার থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের জন্য দুই বছর মেয়াদি এই প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও পুষ্টি কার্যক্রমটি ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিগত প্রায় ১৮ বছরের যাত্রায় গুলবাগিচা কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের প্রায় ৪৫ হাজার সুবিধাবঞ্চিত শিশু শিক্ষা ও পুষ্টিসেবা পেয়েছে। বর্তমানে সিজেডএমের প্রকল্প পর্যায়ে ৪০টি প্রাক-প্রাথমিক সেন্টারের মাধ্যমে এক হাজার ১৭৫ জন শিক্ষার্থীকে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রাক-প্রাথমিক শেষে এসব শিশু যেন ঝরে না পড়ে, সেজন্য সিজেডএম সরাসরি আটটি প্রাথমিক স্কুল, চারটি মাধ্যমিক স্কুল এবং তিনটি মাদ্রাসা পরিচালনা করছে- যেখানে বর্তমানে দুই হাজার ৩২৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এর মধ্যে এতিম ও মেয়েশিশুদের জন্য আবাসিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে- যা মেয়েদের শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়াতে অভাবনীয় ভূমিকা রাখছে।

গুলবাগিচা শুধু শিশুদের জীবন গড়ছে না। এর পাশাপাশি প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়নেও রাখছে অনবদ্য ভূমিকা। এই শিক্ষাকেন্দ্রগুলোয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় স্থানীয় দরিদ্র পরিবারের শিক্ষিত নারীদের। সিজেডএমের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

কেএমএএ/আপ্র/২৯.০৭.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

বাধার প্রাচীর ভেঙে বিউটি পালের সংস্কৃতি চেতনায় আঘাতের প্রতিবাদ
২৯ জুলাই ২০২৬

বাধার প্রাচীর ভেঙে বিউটি পালের সংস্কৃতি চেতনায় আঘাতের প্রতিবাদ

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাধাগ্রস্ত হওয়া, শিল্পীদের অনুষ্ঠান নিয়...

শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দেশের ভবিষ্যৎ
২৯ জুলাই ২০২৬

শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দেশের ভবিষ্যৎ

প্রত্যেক শিশুর জন্মের সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্নেরও জন্ম হয়। ওই স্বপ্নে থাকে শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠা,...

পরিশ্রমী, বিশ্বাসী হয়েও আদিবাসী নারীরা ন্যায্য মজুরিবঞ্চিত
২৯ জুলাই ২০২৬

পরিশ্রমী, বিশ্বাসী হয়েও আদিবাসী নারীরা ন্যায্য মজুরিবঞ্চিত

শ্রমবাজারে নারীর প্রসঙ্গ এলেই আমাদের চোখের সামনে প্রথমে ভেসে ওঠে সকালবেলা রাস্তায় সারি বেঁধে হেঁটে য...

পত্রিকা বিক্রি করেই চলে নার্গিসের জীবন
২৯ জুলাই ২০২৬

পত্রিকা বিক্রি করেই চলে নার্গিসের জীবন

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে পায়ে হেঁটে সংবাদপত্র বিক্রি করছেন পঞ্চাশ-ঊর্ধ্ব নার্গিস খাতুন।...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শিল্পী বললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ এখন প্রতিবাদের ভাষা

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে গানটি সিলেটের এক শিক্ষিকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। গানটির গায়ক মেজবাহ রহমান বলেন, “আমাদের এই গানটি যে অন্যায্য সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক আন্দোলনের ভাষা হয়ে উঠবে, তা কখনো ভাবিনি। গানটি মূলত প্রকৃতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এখন এটি অনেকের কাছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন গানটি সত্যিই প্রতিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 20 ঘন্টা আগে