দীর্ঘ প্রতীক্ষা, কঠিন চোটের লড়াই আর অনিশ্চয়তার দিন পেরিয়ে অবশেষে ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরলেন নেইমার। কিন্তু সেই ফেরা শুধুই মাঠে নামার গল্প নয়—ছিল আবেগ, কান্না আর এক ভিন্ন অনুভূতির অধ্যায়।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচে ৯৮১ দিন পর আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ৭৫ মিনিটে মাঠে নামতেই গ্যালারি দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় তাকে। দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফিরে এমন অভ্যর্থনায় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা।
ম্যাচ শেষে মাঠ ছাড়ার সময় নেইমারকে বারবার চোখ মুছতে দেখা যায়। দর্শকদের দিকে হাত নাড়ার সময়ও তার চোখে ছিল জল। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গ্যালারির কাছে গেলে সন্তান ও সঙ্গিনীকে জড়িয়ে ধরার মুহূর্তেও কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
তবে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে ড্রেসিং রুমে। সংবাদমাধ্যমকে নেইমার জানান, মাঠ ছাড়ার পর তিনি একা ছিলেন এবং তখনই নিজেকে সামলাতে না পেরে চোখের জল ফেলেন।
তিনি বলেন, “ম্যাচের পর যখন লকার রুমে গেলাম, পুরো একা ছিলামৃ কয়েক ফোঁটা চোখের জল ফেলেছিলাম। এই মুহূর্তটা পাওয়া আমার জন্য বিশাল স্বস্তি।”
দীর্ঘদিনের চোট ও পুনর্বাসনের কঠিন সময় পেরিয়ে এই প্রত্যাবর্তনকে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন নেইমার। তিনি বলেন, জাতীয় দলে ফিরে আসা এবং বিশ্বকাপে খেলতে পারা তার জন্য কৃতজ্ঞতার মুহূর্ত।
২০২৩ সালের অক্টোবরের পর জাতীয় দলের বাইরে থাকা নেইমার গুরুতর হাঁটুর চোটে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন। ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা কাটাতে তিনি সৌদি ক্লাব ছেড়ে নিজ দেশের ক্লাব সান্তোসে ফিরে যান। সেখানেও চোট ও পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে তাকে ফিরতে হয়েছে ধীরে ধীরে।
সব প্রতিকূলতা জয় করে অবশেষে বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেন তিনি। কোচ কার্লো আনচেলত্তির আস্থায় স্কোয়াডে থাকলেও মাঠে নামার অপেক্ষা ছিল দীর্ঘ।
এত দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে এসে নেইমার বলেন, দল এখন নতুন রূপে গড়া হয়েছে এবং তিনি নতুন চোখে সবকিছু দেখছেন।
ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা এই তারকা এবার নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোলসংখ্যা ৭৯, আর বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট রয়েছে তার নামের পাশে।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জিতে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে ব্রাজিল। তবে ম্যাচের ফল নয়, এই রাত স্মরণীয় হয়ে থাকবে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তনের জন্যই।
সানা/আপ্র/২৬/৬/২০২৬