তারেক মাহমুদ, লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি ভাড়া বাসায় মা ও তার তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। একই ঘটনায় সন্দেহভাজন এক যুবককে গণপিটুনি দিলে পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এক পরিবারের একমাত্র পুত্রসন্তান জীবিত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে নাফিজা আক্তার ইকরা (১৬) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। গুরুতর আহত অবস্থায় নাফিজাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এতে নিহতদের মধ্যে মা ও তিন মেয়ের মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত শাহিনুর বেগম কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তার স্বামী মো. কামাল হোসেন ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিনি সন্তানদের নিয়ে ওই বাসায় থাকতেন।
প্রতিবেশীরা জানান, সকালে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে মা ও তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। ঘটনাস্থলেই শাহিনুর বেগম ও ছোট মেয়ে শিফার মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহত দুই মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়া হলে আরো দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদার নামের এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
জানা যায়, নিহত শাহিনুর বেগমের বড় মেয়ে সায়মা আক্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। মেজো মেয়ে নাফিজা স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং ছোট মেয়ে শিফা প্রাথমিক পর্যায়ের ছাত্রী ছিল। একমাত্র ছেলে জুনায়েদ ইসলাম ঘটনার সময় বাসায় ছিলেন না।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই দুইজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে আরো একজন এবং ঢাকায় নেওয়ার পথে আরেকজন মারা যায়। অভিযুক্ত যুবককেও আহত অবস্থায় আনা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত যুবক অন্তর মজুমদার নোয়াখালীর বাসিন্দা হলেও রায়পুরে ফল বিক্রি করতেন এবং একসময় একই ভবনে ভাড়া থাকতেন। তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, “ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
সানা/আপ্র/২৬/৬/২০২৬