সিলেট টেস্টের প্রথম দিন ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে অসাধারণ এক শতকে বাংলাদেশকে বড় ধস থেকে উদ্ধার করেছেন লিটন কুমার দাস। তার দৃঢ়তা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান তুলেছে বাংলাদেশ। জবাবে দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান।
টস হেরে ঘাসাচ্ছন্ন উইকেটে ব্যাটিংয়ে নেমেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর অভিষিক্ত তানজিদ হাসান ও মুমিনুল হক কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি বড় হয়নি। তানজিদ ২৬ ও মুমিনুল ২২ রানে আউট হন।
প্রথম সেশনে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম দলকে সামাল দিলেও লাঞ্চের পর দ্রুত বদলে যায় চিত্র। মোহাম্মাদ আব্বাস ও খুররাম শাহজাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১০ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শান্ত ফেরেন ২৯ রানে, মুশফিক ২৩ ও মেহেদী হাসান মিরাজ আউট হন ৪ রানে। তখন দলের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১১৬।
এই সংকটময় মুহূর্তে দায়িত্ব তুলে নেন লিটন। শুরুতে তাইজুল ইসলামকে নিয়ে ৬০ রানের জুটি গড়েন তিনি। পরে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে যোগ করেন আরো ৩৮ রান। শেষদিকে শরিফুল ইসলামকে নিয়ে গড়েন গুরুত্বপূর্ণ ৬৪ রানের জুটি।
১৫৯ বলে ১২৬ রানের অনন্য ইনিংসে ১৬টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান লিটন। ধৈর্য, শট নির্বাচন ও স্ট্রাইক নিয়ন্ত্রণে ছিল পূর্ণতা। ফিল্ডার সীমানায় রেখেও তাকে আটকে রাখতে পারেননি পাকিস্তানি বোলাররা। প্রথম পঞ্চাশে ৯৩ বল খেললেও পরের পঞ্চাশ করেন মাত্র ৪২ বলে।
এটি লিটনের টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ শতরান। এর তিনটিই এসেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে। এর আগে ২০২১ সালে চট্টগ্রাম ও ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতেও পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। রাওয়ালপিন্ডিতে ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানো দলকে ১৩৮ রানের ইনিংসে উদ্ধার করেছিলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
দিনের শেষে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন লিটনই। মাঠ ছাড়ার সময় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর করতালিও যেন সেটিরই স্বীকৃতি হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৭৭ ওভারে ২৭৮ রানে। পাকিস্তানের হয়ে খুররাম শাহজাদ নেন ৪ উইকেট, মোহাম্মাদ আব্বাস ৩টি এবং হাসান আলি ২ উইকেট। পরে ছয় ওভার ব্যাট করে নির্বিঘ্নে দিন পার করেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার।
ক্রমশ ব্যাটিং সহায়ক হয়ে ওঠা উইকেটে দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের বোলারদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। তবে লিটনের এই ধ্রুপদি ইনিংস না থাকলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হয়তো প্রথম দিনেই পুরোপুরি পাকিস্তানের হাতে চলে যেত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৭৭ ওভারে ২৭৮ (জয় ০, তানজিদ ২৬, মুমিনুল ২২, শান্ত ২৯, মুশফিক ২৩, লিটন ১২৬, মিরাজ ৪, তাইজুল ১৬, তাসকিন ৭, শরিফুল ১২*, নাহিদ ০; আব্বাস ১৬-৩-৪৫-৩, শাহজাদ ১৭-১-৮১-৪, হাসান ১১.৫-১-৪৯-২, সালমান ১.১-০-১-০, সাজিদ ৩১-১-৯৬-১)
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৬ ওভারে ২১/০
সানা/আপ্র/১৬/৫/২০২৬