চুয়াডাঙ্গায় সুবর্ণা আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ দাফনে প্রথমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। ‘নাচ-গান ও সামাজিক আচরণ’ নিয়ে অভিযোগ তুলে কবরস্থানে দাফন নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে রাত ১০টার দিকে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৩ মে) ঝিনাইদহে সুবর্ণার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়াড় এলাকায় ভাড়া বাসায় আনা হলে দাফনের প্রস্তুতির সময় বাধার মুখে পড়ে পরিবার।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, দাফন নিয়ে প্রথমে আপত্তি উঠেছিল, পরে স্থানীয়দের সঙ্গে সমঝোতার পর দৌলতদিয়াড় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয়রা জানান-কবরস্থানে দাফন করতে হলে জীবিত অবস্থায় সদস্য হতে হয় এবং নির্ধারিত অর্থ প্রদান করতে হয়, যা সুবর্ণার ক্ষেত্রে হয়নি। পাশাপাশি তাঁর ‘নাচ-গান’ ও সামাজিক আচরণ নিয়েও আপত্তি তোলা হয়।
স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেন, সুবর্ণার আচরণ ও জীবনযাপন সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, তিনি বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশোভন কনটেন্ট তৈরি করতেন।
অন্যদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেন। তাঁর স্বজনরা জানান, এটি সম্পূর্ণ পারিবারিক বিষয়, কিন্তু মৃত্যুর পর দাফনে বাধা অত্যন্ত দুঃখজনক।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য বলেন, কবরস্থানে দাফনের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং সদস্য না হলে দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দাফন নিয়ে বাধা এবং সামাজিক বিচারবোধ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়ভাবে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৬/৫/২০২৬