ইংল্যান্ড সফরে অব্যাহত বিপর্যয়ের মধ্যে নতুন করে বড় কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট। লর্ডস টেস্টে ইনজুরির অজুহাতে ব্যাটিং না করার অভিযোগে জাতীয় দলের ওপেনার ইমাম-উল-হকের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতে এক থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে ফিল্ডিংয়ের সময় বাছুরের (ক্যাফ) পেশিতে চোট পান ইমাম। ফলে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে গেলেও তিনি ব্যাটিংয়ে নামেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৮৯ রানের জবাবে ১৯৯ রানে অলআউট হয়ে যখন পাকিস্তান ম্যাচ ও সিরিজ হারে, তখনও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি।
পিসিবির মতে, এটি কোনো গুরুত্বর চোট ছিল না। দায়িত্বজ্ঞানহীন এই আচরণের কারণেই মূলত পিসিবি তার বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। ইমামের বিরুদ্ধে ভুয়া ইনজুরি বানানোর ইতিহাস নতুন নয়। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরেও নেটে বোলিংয়ের সময় বুড়ো আঙুলে আঘাত পাওয়ার পর একই ধরনের নাটকীয়তার আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি।
তৎকালীন পিসিবি তদন্ত কমিটি তাকে মেডিকেল টিমকে বিভ্রান্ত করা এবং প্রথম ওডিআই ম্যাচটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছিল। পুরোনো ও নতুন বিতর্ক মিলে এবার কঠোর শাস্তির মুখেই পড়তে যাচ্ছেন ইমাম।
এদিকে, কেবল ইমাম-উল-হকই নন, উইকেটরক্ষক-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের শৃঙ্খলা নিয়েও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পিসিবি। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকেও আগামী দিনগুলোতে কারণ দর্শানোর মুখোমুখি হতে হবে।
সূত্র জানিয়েছে, নিকট ভবিষ্যতে রিজওয়ানকে জাতীয় দলে ডাকার কোনো সম্ভাবনা নেই। লর্ডসে লজ্জাজনক হারের পর এজবাস্টনে হতে যাওয়া সিরিজের শেষ টেস্টের আগেই যে সাত ক্রিকেটারকে সফর থেকে ছাঁটাই করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়, তাদের মধ্যেই ছিলেন ইমাম ও রিজওয়ান।
ডিসি/আপ্র/২/৮/২০২৬