প্রথম দুই ম্যাচে জাল অক্ষত রাখা বার্সেলোনা এবার গোল খেয়ে বসে শুরুতেই। তবে দলকে খুব একটা দুর্ভাবনায় পড়তে দেননি হাফিনিয়া, লামিন ইয়ামালরা। এই দুজনের জোড়া গোলে লা লিগায় টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। কাম্প নউয়ে সোমবার রায়ো ভাইয়েকানোর বিপক্ষে বার্সেলোনার জয় ৫-২ গোলে। শিরোপাধারীদের অন্য গোলটি প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী। ভাইয়েকানোর হয়ে জোড়া গোল করেন সের্হিও কামেয়ো।
পিছিয়ে পড়া দলকে সমতায় ফেরান হাফিনিয়া। একটু পরই ইয়ামালের চোখধাঁধানো গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে লুজিনের আত্মঘাতী গোলে চ্যাম্পিয়নদের ব্যবধান বাড়ার পর, দ্বিতীয় গোল করে ভাইয়েকানোকে লড়াইয়ে রাখেন কামেয়ো।
তবে হাফিনিয়া আবার ব্যবধান বাড়িয়ে নেওয়ার পর, শেষ দিকে নিজের দ্বিতীয় গোলে বড় জয় নিশ্চিত করেন ইয়ামাল। লিগ শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে প্রথম তিন ম্যাচে মোট ১২ গোল করল বার্সেলোনা, যার পাঁচটিই অধিনায়ক হাফিনিয়ার। এলচের বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানের জয়ে দুটি ও আথলেতিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয়ে একটি গোল করেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। স্কোয়াডে কোনো স্বীকৃত স্ট্রাইকার না থাকায় ৯ নম্বরের ভূমিকায় খেলানো হচ্ছে তাকে।
তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছে বার্সেলোনা। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে দুই নম্বরে নেমে গেছে রেয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠে এ দিন প্রায় ৬৭ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ২৬টি শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখতে পারে বার্সেলোনা।
ভাইয়েকানোর ১১ শটের পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল। শুরু থেকে বেশিরভাগ সময় বল দখলে রেখে আক্রমণ শাণায় বার্সেলোনা। স্বাগতিকদের কয়েকটি ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর, দ্বাদশ মিনিটে প্রতি আক্রমণে চমকে দেয় ভাইয়েকানো। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বাইলাইন থেকে কাটব্যাক করেন আলভারো গার্সিয়া, আর ছুটে গিয়ে জোরাল শটে দলকে এগিয়ে নেন কামেয়ো। জবাব দিতে অবশ্য বেশি সময় লাগেনি বার্সেলোনার। তিন মিনিটে দুই গোল করে লিড নেয় তারা।
১৯তম মিনিটে শাভি এস্পার্তের পাস ধরে বক্সে ঢোকার মুখে প্রতিপক্ষের একজনকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে সমতা টানেন হাফিনিয়া। সেই রেশ থাকতেই চোখধাঁধানো গোলে দলকে এগিয়ে নেন ইয়ামাল। বল নিয়ে প্রথমে বক্সে ঢুকে পড়া হাফিনিয়া হ্যান্ডবলের আবেদনে আক্রমণ থামিয়ে দেন, ভাইয়েকানো পারেনি বল ক্লিয়ার করতে। মার্ক বের্নালের পাসে বল পেয়ে বাঁ পায়ে জোরাল শট নেন ইয়ামাল, কাছের পোস্টের ওপরের কোণা দিয়ে জালে জড়ায় বল।
আসরে এই স্প্যানিশ তারকার প্রথম গোল এটি। প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের শট ভাইয়েকানো গোলরক্ষক ঠেকানোর পর, কাছ থেকে জালে পাঠান জুল কুন্দে। তবে ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি।
৫১তম মিনিটে ভাগ্যের ছোঁয়ায় ব্যবধান বাড়ে বার্সেলোনার। বাঁ দিক থেকে গর্ডনের পাস ক্লিয়ারের চেষ্টায় কাছ থেকে নিজেদের জালে বল পাঠান ভাইয়েকানোর ডিফেন্ডার লুজিন। তবে ৫৯তম মিনিটে কামেয়োর দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান কমিয়ে উত্তেজনা জিইয়ে রাখে সফরকারীরা।
কর্নারে হেডে গোলটি করেন তিনি। ৬৯তম মিনিটে দারুণ সুযোগ পান দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা ফের্মিন লোপেস, কিন্তু তার শট গোললাইনে আটকে দেন ভাইয়েকানোর এক ডিফেন্ডার। এর মিনিট দুয়েকের মধ্যে ব্যবধান বাড়ান রাফিনিয়া।
বক্সে গর্ডনের চমৎকার ব্যাকহিল ফ্লিকে বল পেয়ে গোলটি করেন তিনি। আর নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ভাইয়েকানোর কফিনে পঞ্চম পেরেক ঠুকে দেন ইয়ামাল। মাঝমাঠের কাছ থেকে এস্পার্তকে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি।
এরপর কারিম আডেইয়েমির পাস বক্সের বাইরে পেয়ে নিচু শট ঠিকানা খুঁজে নেন ১৯ বছর বয়সী তারকা।
ডিসি/আপ্র/০১/০৯/২০২৬