এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গিয়েও পয়েন্ট হারানোর উপক্রম হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদের। তবে শেষ মুহূর্তে বদলি নেমে দলকে নাটকীয় ও রোমাঞ্চকর জয় উপহার দিলেন তরুণ ফরোয়ার্ড কার্লোস এস্পি। প্রতিপক্ষের মাঠে লা লিগায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুই এক গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে হোসে মরিনিয়োর দল।
জুড বেলিংহ্যাম রিয়ালকে এগিয়ে নেওয়ার পর সমতা ফিরিয়েছিলেন আলেক্স কালাত্রাভা। তবে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে ব্যবধান গড়ে দেন বদলি খেলোয়াড় এস্পি। হোসে মরিনিয়োর দ্বিতীয় মেয়াদের এই ম্যাচে মাত্র নবম মিনিটেই গোলের দেখা পায় রিয়াল।
ডি-বক্সের বাইরে বাঁ দিক থেকে পাওয়া ফ্রি কিকে দুর্দান্ত এক ক্রস বাড়ান আর্দা গিলের। সেই বলে ডি-বক্সে ভিড়ের মধ্যে দারুণ এক হেডে সফরকারীদের এগিয়ে নেন ইংলিশ মিডফিল্ডার বেলিংহ্যাম। ম্যাচের প্রথম পঁচিশ মিনিট প্রতিপক্ষ এস্পানিওলের একচেটিয়া আধিপত্য থাকলেও ধীরে ধীরে খেলায় ফেরে স্বাগতিকরা।
ত্রিশ মিনিটে সেই প্রচেষ্টার ফলও হাতেনাতে পায় তারা। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো পাস ছয় গজ বক্সের মুখে পেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় শট নিয়ে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন কালাত্রাভা।
পেশাদার ক্যারিয়ারে লা লিগায় মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেই গোলের খাতা খোলেন এই ছাব্বিশ বছর বয়সী স্প্যানিশ উইঙ্গার। বিরতির ঠিক আগে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের ভুলে গোলের একটি সহজ সুযোগ পেয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপে, তবে ফরাসি তারকা তা কাজে লাগাতে পারেননি।
এর তিন মিনিট পর অন্যপ্রান্তে নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া করেন রবের্তো ফের্নান্দেস; ফাঁকায় বল পেয়েও তিনি ঠিকঠাক হেড করতে না পারায় বড় বিপদের হাত থেকে বেঁচে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। দ্বিতীয়বার মাঠে ফিরে অষ্টম মিনিটে আরও একবার ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পান বেলিংহ্যাম। কিন্তু তার জোরালো হেড কোনোমতে এক হাত দিয়ে রুখে দেন এস্পানিওলের গোলরক্ষক, আর ফিরতি বল জালে জড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এমবাপে।
চৌষট্টি মিনিটে একসঙ্গে দুটি পরিবর্তন আনেন কোচ মরিনিয়ো। ডিফেন্ডার আলভারো কাররেরাস ও মিডফিল্ডার আর্দা গিলেরকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান দলের দুই নতুন মুখ মার্ক কুকুরেইয়া ও উইঙ্গার ইয়ান ডিওমান্ডেকে।
প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মিলছিল না। বাঁ দিক দিয়ে বারবার ডি-বক্সে ঢোকার চেষ্টা করেও প্রতিবারই শেষ মুহূর্তে ব্যর্থ হচ্ছিলেন ভিনিসিউস জুনিয়র। আটাত্তর মিনিটে রিয়ালের দুর্ভাগ্য আরও একবার বাধা হয়ে দাঁড়ায়, যখন ফেদে ভালভের্দের জোরালো শট পোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়। যখন জয় নিয়ে শঙ্কা জাগছিল, ঠিক তখনই আশার আলো দেখান কোচ মরিনিয়ো।
আশি মিনিটে বেলিংহ্যামকে তুলে নিয়ে এস্পিকে মাঠে নামান তিনি, যা পরে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। এমবাপে ডি-বক্সে বলের নিয়ন্ত্রণ হারালেও সময়মতো সেখানে পৌঁছে যান এস্পি। গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দলের পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেন একুশ বছর বয়সী এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে মাত্র দশ মিনিট মাঠে থেকেই নিজের গোলের খাতা খুললেন গত জুলাইয়ে লেভান্তে থেকে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে যোগ দেওয়া এস্পি। অভিষেক ম্যাচেই হয়ে উঠলেন দলের ত্রাতা ও শেষ মুহূর্তের নায়ক।
ডিসি/আপ্র/২৩/০৮/২০২৬