ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের গৌরীপুরের গঙ্গাশ্রম এলাকার একটি খাল থেকে ভেসে ওঠা স্যুটকেস ঘিরে ২০২০ সালের এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
স্যুটকেস খুলে পাওয়া বস্তার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় এক তরুণীর মরদেহ, সঙ্গে ছিল পাঁচটি ইট। শরীরজুড়ে ছিল আঘাতের চিহ্ন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, হত্যার পর মরদেহ গুম করতেই স্যুটকেসে ভরে খালে ফেলে দেওয়া হয়।
তদন্তে জানা যায়, নিহত তরুণীর নাম সাবিনা (২১)। তিনি ময়মনসিংহ শহরের একটি আবাসিক ভবনে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। ওই বাসার বাসিন্দা জাকির ও তাঁর স্ত্রী রিফাতের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠে আসে তদন্তে।
পিবিআইয়ের তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড় নেয় স্যুটকেসের ভেতরে পাওয়া কয়েকটি পুরোনো প্রেসক্রিপশন। প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও পরে এই প্রেসক্রিপশনই তদন্তের মূল সূত্র হয়ে দাঁড়ায়। এর মাধ্যমে একটি নাম–ঠিকানা শনাক্ত করে তদন্তকারীরা পৌঁছে যান সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটে, যেখান থেকে বেরিয়ে আসে হত্যার আসল ঘটনা।
তদন্তে উঠে আসে, ২০২০ সালের ৮ নভেম্বর সকালে কাজ করতে দেরি হওয়ায় গৃহকর্ত্রী রিফাত সাবিনাকে মারধর করেন এবং চুল ধরে টানাহেঁচড়া করেন। একপর্যায়ে মাথা দেয়ালে আঘাত করলে সাবিনা মারা যান। পরে স্বামী জাকিরের সঙ্গে মিলে মরদেহ গুমের পরিকল্পনা করেন রিফাত।
মরদেহ বস্তায় ভরে তার ভেতর পাঁচটি ইট রাখা হয়, যাতে সেটি পানিতে ডুবে থাকে। এরপর সেটি পুরোনো স্যুটকেসে ভরে লিফটের মাধ্যমে নিচে নামিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে মহাসড়কের খালে ফেলে দেওয়া হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ ও মুঠোফোনের অবস্থান বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন ঘটনার গতিপথ। পরে ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি জাকির-রিফাত দম্পতিকে গ্রেফতার করে পিবিআই।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সাবিনাকে নির্যাতন, অবহেলা ও সীমিত যোগাযোগের মধ্যে রাখা হতো। পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও তাকে হত্যা করা হয়েছে—এ তথ্য পরিবার জানত না। বরং তাকে ভালো আছে বলে বিভ্রান্ত করা হতো এবং নিয়মিত টাকা পাঠানো হতো।
পিবিআইয়ের প্রধান ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল জানান, মরদেহ গুমের সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায় স্যুটকেসে থাকা পুরোনো প্রেসক্রিপশন ও প্রযুক্তিগত আলামতের কারণে। এগুলিই খুনিদের শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৩/৬/২০২৬