বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং সাংবাদিকদের ওপর দলীয় নিপীড়নের চক্র ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ক্ষমতা গ্রহণের এক শ দিনের মাথায় সংস্থাটি বলেছে, নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (২ জুন) সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ আহ্বান জানানো হয় এবং একই সঙ্গে ১০ দফা সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।
সিপিজের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কর্মসূচির সমন্বয়কারী কুনাল মজুমদার বলেন, বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিটি নতুন সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত আইনি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন সরকার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিলেও ১০০ দিন পরও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সীমিত।
তিনি আরো বলেন, কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ এবং মব ভায়োলেন্স থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত আইনগুলো সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার পরিবর্তনের প্রতিটি ধাপেই সাংবাদিকদের আটক, বিচার, নজরদারি, হামলা ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার প্রবণতা দেখা গেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, পূর্ববর্তী সরকারের প্রতি তাদের কথিত আনুগত্যের ধারণা।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সিপিজে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে ১০টি মূল সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার ব্যবহার বন্ধ করা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিক ও সংবাদকক্ষকে মব ভায়োলেন্স থেকে সুরক্ষা দেওয়া।
এছাড়া সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাইবার মামলা প্রত্যাহার, সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংস্কার করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এর প্রয়োগ বন্ধ করা, খসড়া গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ প্রত্যাহার এবং গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়েছে।
সুপারিশে আরো রয়েছে পুরোনো আইন ও নজরদারি কাঠামো বাতিল বা সংশোধন, অ্যাক্রিডিটেশন ব্যবস্থার সংস্কার, হয়রানিমূলক মামলা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো ও হেয়প্রতিপন্ন করার প্রবণতা বন্ধ করা।
সিপিজে বলেছে, বাংলাদেশে টেকসই গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা অপরিহার্য। সূত্র: কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস
সানা/আপ্র/২/৬/২০২৬