গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

নেহরীন খান স্মৃতি বক্তৃতা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে ফরাসউদ্দিন

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ‘পুরোপুরি আমলাতান্ত্রিক অব্যবস্থা’

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:০৬ পিএম, ১২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০৭:২৭ এএম ২০২৬
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ‘পুরোপুরি আমলাতান্ত্রিক অব্যবস্থা’
ছবি

রোববার রাজধানীর বেসরকারি ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন -ছবি সংগৃহীত

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে ‘পুরোপুরি আমলাতান্ত্রিক অব্যবস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজনীতিবিদেরা নিজেদের ওপর নিজেরাই অনাস্থা প্রকাশ করছেন, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক নয়।

রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর বেসরকারি ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘নেহরীন খান স্মৃতি বক্তৃতা ও সম্মাননা অনুষ্ঠান ২০২৬’-এ সম্মানিত বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ‘সাংবিধানিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থা, নির্বাচনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি।

অধ্যাপক ফরাসউদ্দিন বলেন, নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার এবং প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা গেলে দেশের শাসনব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে এ নির্বাচন শুধু সংসদ সদস্যদের ভোটের ওপর নির্ভরশীল। এর পরিবর্তে একটি বৃহৎ নির্বাচকমণ্ডলী গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। এতে সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন তিনি।

তার মতে, এতে রাষ্ট্রপতি পদের মর্যাদা বাড়বে এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হবে।

১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষের প্রস্তাব: দেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় একটি ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন অধ্যাপক ফরাসউদ্দিন। তিনি বলেন, দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচন করা যেতে পারে। সংবিধান সংশোধন ও গুরুত্বপূর্ণ আইন পর্যালোচনায় উচ্চকক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান ‘জয়ী সব পাবে’ নীতির কারণে নির্বাচনে ভোটের ব্যবধান সামান্য হলেও সংসদীয় আসনের ব্যবধানে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি এ বিষয়ে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের দাবি: সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। ফরাসউদ্দিন বলেন, দলত্যাগ ঠেকাতে এই ধারা করা হলেও বর্তমানে এটি সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মত প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি প্রস্তাব দেন, সংবিধান সংশোধন, অনাস্থা প্রস্তাব ও অর্থবিল ছাড়া অন্য সব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।

নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রস্তাব: জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রার্থী নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন অধ্যাপক ফরাসউদ্দিন। এ শর্ত পূরণ না করলে দলীয় নিবন্ধন বাতিলের বিধান রাখার কথাও বলেন তিনি।

পর্যায়ক্রমে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৫০ শতাংশে উন্নীত করার পক্ষে মত দেন তিনি।

নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণে জামানতের পরিমাণ কমানো এবং নির্বাচনী ব্যয়ের একটি অংশ সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচনী ব্যয়ের নিরীক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রশাসন ও ব্যাংক খাতে সংস্কারের তাগিদ: প্রশাসনিক সংস্কার প্রসঙ্গে অধ্যাপক ফরাসউদ্দিন বলেন, বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন পদ শূন্য রয়েছে। নিরপেক্ষভাবে এসব পদে নিয়োগ দেওয়া গেলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আমলাতন্ত্র সংস্কারে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি অদক্ষ কর্মকর্তাদের সম্মানজনক অবসরের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলেন।

ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার হিসাব অনুযায়ী, দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ।

খেলাপি ঋণের সুদ আলাদা হিসাবে রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির সম্ভাবনা: বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতির কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ফরাসউদ্দিন বলেন, ১৯৭২ সালে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের আকার ছিল প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ৪৬০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তবে রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতাকে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে কর ব্যবস্থাকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার ওপর জোর দেন তিনি।


অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির আহ্বান: সংস্কার কার্যক্রমে সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ফরাসউদ্দিন বলেন, দেশের কোনো বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে টেকসই সংস্কার সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, রাজনীতি হতে হবে সর্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। কাউকে বাদ দিয়ে কোনো সংস্কার উদ্যোগ সফল হবে না।
অনুষ্ঠানে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শামস রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ফকরুল আলম, কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/১২/৭/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম
১৬ অক্টোবর ২০২৬

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম

শিশুদের তীব্র অপুষ্টি বেড়েছে, আট বছরে ক্ষুধা কমেছে মাত্র ৪ শতাংশ

পীরগঞ্জে পৌর ভবনের ছাদ ধসে দুই শ্রমিকের মৃত্যু, দায় কার?
১৪ অক্টোবর ২০২৬

পীরগঞ্জে পৌর ভবনের ছাদ ধসে দুই শ্রমিকের মৃত্যু, দায় কার?

তদন্ত কমিটি গঠন; মামলায় আসামি ৯

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সরছে সচিবালয়, হবে নতুন সড়ক
১১ অক্টোবর ২০২৬

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সরছে সচিবালয়, হবে নতুন সড়ক

প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে