প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম।
রোববার (১২ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে নির্বাসনে রয়েছেন। তিনি সাধারণ নাগরিকের মতো স্বাধীনভাবে দেশে ফিরতে পারবেন না। বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁকে ফিরতে হবে। দেশে ফিরলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে।
সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, শুধু তিনি নন, নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও তাঁর সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, নেতাকর্মীদের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যেই এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। সরকার কূটনৈতিকভাবে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনার জামিনের সুযোগ আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির জামিনের কোনো বিধান নেই। তাই দেশে ফিরলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে।
প্রধান কৌঁসুলি আরো বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করে আপিল না করায় শেখ হাসিনা আপিলের অধিকার হারিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল আইনে রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি।
শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ে সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ থাকায় আপিল নিষ্পত্তির আগে দেশের কোনো সম্পদ ভোগ করার সুযোগ তাঁর নেই।
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে আনা হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশে ফেরত পাঠাতে ভারতের প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
এদিকে ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলাগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই এ মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হবে।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে চলমান প্রধান ১০টি মামলার তদন্তও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুত এসব মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে সর্বহারা পার্টির নেতা সিরাজ শিকদার হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে।
সানা/আপ্র/১২/৭/২০২৬