ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ও পুরোনো তারের ব্যবসায়ী সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় ২১ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৯ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন-মাহমুদ হাসান মহিন, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু ওরফে নান্নু কাজী, সজীব ওরফে সজীব বেপারী, টিটন গাজী, তারেক রহমান রবিন, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ, সাগর, রিজওয়ান উদ্দিন ওরফে অভিজিৎ বসু ওরফে অভি, রুমান বেপারী, আবির হোসেন, জহির, ইমরান হোসেন, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, হোসেন চৌকিদার, জিয়াউদ্দিন রাজিব, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির এবং অপু দাস।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জিয়াউল হক জানান, ২১ আসামির মধ্যে ১০ জন কারাগারে, আটজন পলাতক এবং তিনজন জামিনে রয়েছেন।
অভিযোগ গঠনের শুনানিতে জামিনে থাকা তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কারাগারে থাকা ১০ আসামিকেও আদালতে হাজির করা হয়। তাদের আইনজীবীরা অব্যাহতির আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। শুনানিতে উপস্থিত ১৩ আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিকেলে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে প্রকাশ্যে কংক্রিটের বোল্ডার দিয়ে শরীর ও মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয় ভাঙারি ও পুরোনো তারের ব্যবসায়ী সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে যাদের দেখা যায় এবং যাদের নাম উঠে আসে, তারা অধিকাংশই সোহাগের পূর্বপরিচিত। তাদের কয়েকজন একসময় তাঁর ব্যবসায়িক সহযোগীও ছিলেন। তদন্তে ব্যবসা-সংক্রান্ত বিরোধকে হত্যার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে ঢাকার কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিলেও পরে তাতে ত্রুটি-বিচ্যুতির কথা উল্লেখ করে অধিকতর তদন্তের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন।
পরে মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি গত ১০ মে ২১ আসামির বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর বিচার উপযোগী হওয়ায় গত ২১ জুন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মামলাটি বিচারের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন।
সানা/ডিসি/আপ্র/১২/৭/২০২৬