গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মেনু

বিশ্লেষকদের শঙ্কা- শুল্কহার কোথায় গিয়ে স্থির হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত শুল্ক হার কত?

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫৯ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২২:২৫ এএম ২০২৬
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত শুল্ক হার কত?
ছবি

প্রতিনিধিত্বকারী ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি করেছে গত ৯ ফেব্রুয়ারি। সেই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ওপর দেশটির পাল্টা শুল্কের হার ১৯ শতাংশ। দুই সপ্তাহ পার না হতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বিকল্প পথও বেছে নিয়েছেন। রায়ের কয়েক ঘণ্টার মাথায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দেন তিনি। এর একদিন পর শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) তা আরো বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। নতুন এই শুল্ক মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে বৈশ্বিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি বাতিল হয়ে যাবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে। যদিও কেউ এ নিয়ে স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না। আবার ১৫ শতাংশের বিষয়টি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কিনা, তা-ও কেউ নিশ্চিত নন।

একটি সংবাদসংস্থার প্রতিবেদনে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ায় বাংলাদেশের রফতানিকারকদের মধ্যে স্বস্তি ও শঙ্কা-দুই অনুভূতিই কাজ করছে। সুপ্রিম কোর্ট পারস্পরিক শুল্ক বাতিল করার পর প্রথমে ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা জানানো হলেও ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। এই শুল্কহার বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তিতে নির্ধারিত ১৯ শতাংশের চেয়ে কম হলেও ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে দেশের সর্ববৃহৎ রফতানি বাজার ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন শিল্পনেতা ও অর্থনীতিবিদরা।

এদিকে বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা-শুল্কহার কোথায় গিয়ে স্থির হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে বড় ও দীর্ঘমেয়াদি অর্ডারের বদলে ক্রেতারা ছোট চালানভিত্তিক ক্রয়ে ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এতে রফতানির ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন শুল্কহারও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেছেন, ‘চুক্তিতে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ কমানোর কথা বলা হলেও কত শতাংশ কটন ব্যবহার করলে শুল্ক সুবিধা মিলবে, তা স্পষ্ট নয়। এমনকি রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ শূন্য হলেও নিয়মিত প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকতে পারে-এমন আশঙ্কাও রয়েছে।’

দ্রুত নীতি পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা: সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ অবৈধ ঘোষণা করেছে। তবে এ ট্যারিফ কমাতে যেসব দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছে, সেগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে-তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘মার্কিন প্রশাসনের নীতিতে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। তাই কৌশলগতভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা জরুরি। চুক্তি বহাল থাকলে অবিলম্বে পুনরায় আলোচনায় বসে রিনেগোশিয়েট করা উচিত। আর চুক্তি বাতিল হলে সেটি বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক হতে পারে।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বজনীন আমদানি শুল্কহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল সর্বজনীন বেসলাইন শুল্কহার প্রায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে অতীতে জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন- ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে এই গড় শুল্কহার বাড়িয়ে প্রায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আইইইপিএ ও ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আবার ৮ দশমিক ৩ শতাংশের বেসলাইন পর্যায়ে ফিরে এসেছে। ফলে আগের উচ্চ-শুল্ক কাঠামো কার্যত শিথিল হয়েছে। তবে নীতিনির্ধারণী মহলে এখন আলোচনায় রয়েছে, নতুন করে সেকশন ১২২-এর আওতায় ১৫ শতাংশ সারচার্জ আরোপ করা হলে গড় শুল্কহার বেড়ে ১৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। যদিও এটি আগের ১৫ দশমিক ৩ শতাংশের উচ্চস্তরের তুলনায় এখনও ২ দশমিক ১ শতাংশ কম থাকবে।

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বাণিজ্যনীতিতে সব সময় অন্তত ১০ শতাংশ সর্বজনীন বেসলাইন শুল্ক আরোপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি এই হার ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল সংবাদসংস্থাটিকে বলেন , ‘আদালতের রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কাঠামো নতুন করে পুনর্বিন্যাসের পর্যায়ে রয়েছে। কংগ্রেসীয় অনুমোদন ছাড়া নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে উচ্চ শুল্ক আরোপের পথ সংকুচিত হওয়ায় ভবিষ্যতে বাণিজ্যনীতিতে আরো রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কাঠামো নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আগে উল্লিখিত ৮.৩ শতাংশ হারটি ছিল দেশটির সামগ্রিক বাণিজ্য-ওজনভিত্তিক গড় শুল্ক হার। তবে তৈরি পোশাক খাতের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন, কারণ এখানে হিসাব করা হচ্ছে কেবল এইচএস কোড ৬১ ও ৬২-অর্থাৎ পোশাকশ্রেণির পণ্যের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক।

নতুন করে সেকশন ১২২-এর অধীনে বৈশ্বিক ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত সারচার্জ আরোপের ফলে পোশাক আমদানিতে শুল্কের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে এইচএস ৬১ ও ৬২ অধ্যায়ভুক্ত পোশাকপণ্যে গড় এমএফএন (সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ) শুল্কহার প্রায় ১৪.৭ শতাংশ। এটি যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানির সাধারণ ভিত্তি শুল্ক হিসেবে বিবেচিত। তবে উচ্চ পরিমাণে আমদানি হওয়া মৌলিক পণ্য যেমন- তুলার টি-শার্ট ও ডেনিমের ক্ষেত্রে নিয়মিত এমএফএন শুল্ক গড়ের চেয়ে বেশি, প্রায় ১৬.৫ শতাংশ। এই পণ্যের ওপর সেকশন ১২২-এর অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ সারচার্জ যোগ হলে বাংলাদেশের রফতানিকৃত তুলাজাত পোশাকে মোট শুল্কের হার দাঁড়ায় প্রায় ৩১.৫ শতাংশে। অপরদিকে কৃত্রিম তন্তু বা সিনথেটিক ফাইবারের তৈরি পোশাকে মূল এমএফএন শুল্কহার আরো বেশি, সাধারণত ২৫ থেকে ৩২ শতাংশের মধ্যে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ সারচার্জ যুক্ত হলে এসব পণ্যে মোট শুল্কের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৭ শতাংশে, যা নির্দিষ্ট পণ্যের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। 


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত এই শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে প্রতিযোগিতামূলক চাপ আরো বাড়তে পারে, বিশেষ করে তুলা ও সিনথেটিক উভয় শ্রেণির পণ্যের ক্ষেত্রে। আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) অনুযায়ী আরোপিত শুল্ক আদায় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে বন্ধ করে দেবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার ১২টা ১ মিনিট (ইএসটি) থেকে এই শুল্ক আদায় বন্ধ করা হবে। অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট এই শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করার তিন দিনের বেশি সময় পর সংস্থাটি এ সিদ্ধান্তের কথা জানাল।
সংস্থাটি কার্গো সিস্টেম মেসেজিং সার্ভিসে (সিএসএমএস) জাহাজ ও আমদানিকারকদের জন্য পাঠানো বার্তায় জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের আইইইপিএ-সংক্রান্ত সব শুল্ক কোড নিষ্ক্রিয় করা হবে।


বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদুল হাসান বাবু বলেন, ‘শুল্ক কমলে পণ্যের দাম কমে এবং ভোগ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। সে বিবেচনায় পাল্টা শুল্ক বাতিল হওয়া ‘মন্দের ভালো’। তবে ঘন ঘন শুল্ক পরিবর্তনে আমদানিকারকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন শুল্ক কাঠামোর অনিশ্চয়তা। বারবার শুল্ক পরিবর্তনের কারণে ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলো দর নির্ধারণে দ্বিধায় পড়ছে। এই অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।’

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘যদি অন্য দেশের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ এবং চুক্তির কারণে বাংলাদেশের জন্য ১৯ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকে, তাহলে প্রতিযোগিতায় ক্ষতি হবে। যেহেতু সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে পাল্টা শুল্ক বাতিল হয়েছে, তাই চুক্তি পুনর্বিবেচনা বা বাতিলের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘গত একবছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির ঘন ঘন পরিবর্তনে বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় মাঝপথে শুল্ক পরিবর্তন হলে ব্যবসা পরিকল্পনা ব্যাহত হয়।’

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পুরো পরিস্থিতিকে ‘অস্থায়ী ও অনিশ্চিত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘শুল্কহার পূর্বানুমানযোগ্য হওয়া পোশাক খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তার মতে, আদালতের সিদ্ধান্ত আইনি অনিশ্চয়তা কিছুটা কমালেও হঠাৎ করে অর্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে- এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারো কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেয়, তবে বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থায় নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি সই হলেও তা এখনও কার্যকর হয়নি। চুক্তি কার্যকর করতে দুই দেশের নিজ নিজ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ‘রেটিফিকেশন’ প্রয়োজন। বাংলাদেশ আপাতত সেই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় যাবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের অনুমোদনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তখন বাংলাদেশ অবস্থান স্পষ্ট করবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করার পর নতুন আইনের আওতায় প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যদি এই হার সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়, তাহলে বাংলাদেশের বিশেষ কিছু করার সুযোগ থাকবে না। তবে দেশভেদে শুল্কহারে পার্থক্য থাকলে বাংলাদেশ আলোচনায় বসবে।’
গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষ লিখিতভাবে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্নের নোটিশ বিনিময়ের ৬০ দিন পর এটি কার্যকর হওয়ার কথা। পারস্পরিক সম্মতিতে অন্য তারিখও নির্ধারণ করা যেতে পারে। আবার যেকোনও পক্ষ লিখিত নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিল করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ৬০ দিন পর তা কার্যকর হবে। চুক্তির আগে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর শুল্কহার ছিল ২০ শতাংশ, যা এখনও বহাল আছে। চুক্তি কার্যকর হলে তা ১৯ শতাংশে নামার কথা ছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে তৈরি পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে পাল্টা শুল্ক আরোপ না করার সুবিধা দেওয়ার কথা ছিল।

রফতানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক: তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা জানা যায়।

সানা/আপ্র/২৪/২/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

আদানির সঙ্গে চুক্তি পুনঃআলোচনা করতে চায় সরকার
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আদানির সঙ্গে চুক্তি পুনঃআলোচনা করতে চায় সরকার

বিদ্যুতের দাম বেশি

দেড় বছর পর আপন অঙ্গনে অধ্যাপক ইউনূস
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দেড় বছর পর আপন অঙ্গনে অধ্যাপক ইউনূস

দেড় বছর আগে দেশের এক বিশেষ মুহূর্তে অন্তর্বর্তীকালের জন্য সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন অধ্যাপক মু...

বাংলাকে ধারণ করতে হলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না: বিদ্যুৎমন্ত্রী
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাকে ধারণ করতে হলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) বলেছেন, আজ বাংলা ভাষা সম্পর্কে আমরা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গ্যাস সংকটের সুযোগে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে, এর মধ্যেই সরকার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে। এটা কতটা যুক্তিসঙ্গত মনে করেন?

মোট ভোট: ৩ | শেষ আপডেট: 3 সপ্তাহ আগে