পবিত্র রমজান শেষে আগামীকাল শনিবার (২১ মার্চ) দেশজুড়ে উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের প্রধান জামাত। এবারও প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত করা হয়েছে জাতীয় ঈদগাহ।
ঐতিহাসিক এই মাঠকে ১৯৮৭-৮৮ সালের দিকে ‘জাতীয় ঈদগাহ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০০ সাল থেকে এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে সিটি কর্পোরেশন। এবারও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে টানা ২৮ দিনের কর্মযজ্ঞে ময়দানটি নামাজের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মাঠ প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘পি আর এন্টারপ্রাইজ’।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শতাধিক কর্মী দিনরাত পরিশ্রম করে মাঠটিকে নামাজের উপযোগী করে তুলেছেন। বিশাল এই প্যান্ডেল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪৩ হাজারের বেশি বাঁশ। কাঠামো মজবুত রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৫ টনেরও বেশি রশি। বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টি থেকে মুসল্লিদের সুরক্ষায় প্যান্ডেলের ওপর টানানো হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯০০টি উন্নত মানের ত্রিপল। আলোর জন্য লাগানো হয়েছে প্রায় ৯০০টি নলবাতি।
দীর্ঘ ৩৬ বছর পর এবারই প্রথম জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। প্রধান এই জামাতে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়াও প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, কূটনীতিক এবং সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা এই জামাতে অংশ নেবেন।
প্রটোকল অনুযায়ী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানসহ প্রায় ৩৩০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্য সংরক্ষিত এলাকা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০ জন পুরুষ এবং ৮০ জন নারী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি রয়েছেন। এ ছাড়া সাধারণ মুসল্লিদের জন্য প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং ৩ হাজার ৫০০ নারীর পৃথক নামাজের স্থান ও পর্দার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্যান্ডেলের ভেতরে নামাজের কাতারগুলো সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়েছে। পুরো মাঠে মোট ১২১টি কাতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫টি বড় এবং ৫৬টি ছোট কাতার রাখা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সূত্রে আরো জানা গেছে, মূল প্যান্ডেলের ভেতরে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। তবে ঈদগাহের অভ্যন্তরীণ স্থান পূর্ণ হয়ে গেলে প্রতিবারের মতো এবারও আশপাশের খোলা জায়গা ও সংলগ্ন সড়ক মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের জামাতে অংশ নিতে পারবেন।
মুসল্লিদের স্বস্তি দিতে প্যান্ডেলের ভেতরে ১ হাজার ১০০টি পাখা লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে ৯০০টি ছাদপাখা এবং ২০০টি দাঁড়ানো পাখা। এ ছাড়া অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাতারে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওজুর জন্য প্যান্ডেলের ভেতরেই ১৪০ জন মুসল্লির পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে পুরুষ ও নারীরা আলাদাভাবে ওজু করতে পারবেন। পাশাপাশি পুরো এলাকায় পর্যাপ্ত সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সাধারণ মুসল্লিদের জন্য রাখা হয়েছে মোট চারটি ফটক। নামাজ শেষে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে বের হওয়ার জন্য রাখা হয়েছে সাতটি পথ। জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় দুটি চিকিৎসক দল সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবে। এ ছাড়া পুরো ঈদগাহ এলাকাকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আওতায় রাখতে স্থাপন করা হয়েছে নজরদারি ক্যামেরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতের প্রস্তুতিপর্ব সরেজমিনে পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের জামাতে দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে এখানে নামাজ আদায় করবেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, ঈদগাহ ময়দানে ৩ হাজার ৫০০ নারীসহ মোট ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথসহ ওজু ও নামাজের জন্য সম্পূর্ণ সংরক্ষিত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মুসল্লিদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ চিকিৎসক দল মোতায়েন থাকবে।
তিনি জানান, প্রবেশের সময় ফটক সীমিত থাকলেও নামাজ শেষে মুসল্লিদের দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন প্রস্থান নিশ্চিত করতে সবগুলো ফটক খুলে দেওয়া হবে।
তিনি আরো জানান, কোনো কারণে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে।
একই সঙ্গে তিনি মুসল্লিদের নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগে ঈদগাহে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানান।
সানা/আপ্র/২০/৩/২০২৬