আজ ২০ রমজান। আজ রমজানের মাগফিরাত দশকের শেষ দিন। আজ সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে মাহে রমজানের শেষ ভাগের শুরু হবে। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হিওয়া সাল্লাম বলেছেন, আখিরুহু ইৎকুম মিনান্নার তার শেষাংশ হচ্ছে দোযখের আগুন থেকে মুক্তির।
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশকে মসজিদে নববীতে ইতিফাক করতেন এবং তাঁর স্ত্রীগণ যাঁর যাঁর হুজরা শরীফে ইতিকাফরত হতেন। হযরত আয়িশা সিদ্দিকা রাদি আল্লাহু তা’আলা আন্হা থেকে বর্ণিত আছে যে, আননান নাবীয়া সাল্লাল্লাহু আলায়ি ওয়াসাল্লাম কানা ইয়াতাকিফুল আশরা আওয়াখিরা মিন রমাদানা হাত্তা তাওয়াফ ফাহুল্লাহু ছুম্মা ইতাকাফা আযওয়া জুহু মিন বা’দিহি-নবী (সাঃ) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। তাঁর ওফাত পর্যন্ত এ নিয়মই ছিল। অতঃপর তাঁর স্ত্রীগণ তাঁর পরবর্তীকালেও ইতিকাফ করতেন। (বুখারী শরীফ)। প্রিয়নবী (সাঃ) যখন ইতিকাফ করতেন তখন হযরত জিবরাইল (আঃ) তাঁর কাছে বেশি করে আসতেন এবং তখন পর্যন্ত যতটুকু কোরান মজিদ নাযিল হতো তা শুনতেন এবং শোনাতেন।
নাজাতের প্রস্তুতি কতটুকু: পবিত্র রমজান মাসের ২০টি দিন চোখের পলকেই কেটে গেছে। রহমতের ধারা পেরিয়ে এখন মুসলিম উম্মাহ অবস্থান করছে ‘মাগফিরাত’ বা ক্ষমা লাভের দশকের শেষ দিবসে। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, রমজানের দ্বিতীয় দশকে মহান আল্লাহ অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। তাই ২০ রমজানের এই সময়টায় অনেক মুমিনের মনেই প্রশ্ন জাগে- আমি কি সেই ক্ষমাপ্রাপ্তদের তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছি?
মাগফিরাতের শেষ সময়: প্রখ্যাত আলেম ইমাম ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.) রমজান মাসকে ‘আখেরাতের ব্যবসার সবচেয়ে লাভজনক মৌসুম’ বলে উল্লেখ করেছেন। আজ ২০ রমজান; অর্থাৎ মাগফিরাতের দশকের সময় প্রায় শেষের দিকে। যারা ব্যস্ততা বা অলসতায় এই দশকের মূল্যবান সময়গুলো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেননি, তাদের জন্য বাকি সময়টুকুই তওবা ও ইস্তেগফারের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
আলেমদের মতে, নাজাতের দশকের বড় প্রাপ্তিগুলো তারাই অর্জন করতে পারেন, যারা মাগফিরাতের দশকে আন্তরিক তওবার মাধ্যমে নিজেদের পাপ থেকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করেন।
সামনে নাজাতের দশক: ২০ রমজানের সূর্যাস্তের পর শুরু হবে রমজানের শেষ দশক- নাজাত বা জাহান্নাম থেকে মুক্তির সময়। এই দশকেই রয়েছে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রজনী লাইলাতুল কদর। হাদিসে বর্ণিত আছে, মহানবী মুহাম্মদ (স.) রমজানের শেষ দশকে ইবাদতের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত হতেন। তিনি রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। এ সময়ই শুরু হয় সুন্নত ইতেকাফ।
কেনাকাটার ব্যস্ততা ও ইবাদতের সময়: রমজানের মাঝামাঝি সময় এলেই অনেক জায়গায় ঈদের কেনাকাটার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। বিপণিবিতানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। অথচ এই সময়টিই হওয়া উচিত ইবাদতের চূড়ান্ত প্রস্তুতির সময়। আলেমদের পরামর্শ হলো- কেনাকাটা বা পার্থিব ব্যস্ততায় মগ্ন হয়ে যেন আমরা রমজানের শেষ দশকের মূল্যবান সময় নষ্ট না করি। যাদের কেনাকাটা বাকি আছে, তারা ২০ রমজানের আগেই তা শেষ করে নিতে পারেন, যাতে শেষ দশকের রাতগুলো ইবাদতে কাটানো যায়।
এই সময়ের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ আমল: রমজানের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টায় কয়েকটি আমলের দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে-
১. বেশি বেশি ইস্তেগফার: অন্তত ১০০ বার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পাঠ করা।
২. ইতেকাফের প্রস্তুতি: যারা ইতেকাফে বসবেন, প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো আগে থেকে জেনে নেওয়া।
৩. ইবাদতের পরিকল্পনা: শেষ দশকের জন্য একটি ইবাদত রুটিন তৈরি করা।
৪. দান-সদকা বৃদ্ধি: সামর্থ্য অনুযায়ী অভাবীদের সাহায্য করা।
৫. লাইলাতুল কদরের প্রত্যাশা: সংকল্প করা- শেষ দশকের কোনো রাত যেন ইবাদত ছাড়া না কাটে।
২৮ রমজান যেন মুমিনদের মনে করিয়ে দেয়- সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। মাগফিরাতের দশক শেষে শুরু হবে নাজাতের দশক। তাই এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে ইবাদত, তওবা ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করাই একজন মুমিনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাগফিরাতের শেষ সুযোগ কাজে লাগানোর এবং নাজাতের দশকের বরকত লাভ করার তাওফিক দান করুন।
সানা/আপ্র/১০/৩/২০২৬