গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

মেনু

মাহে রমজান

ইসলামে ১৭ রমজানের বিশেষ গুরুত্ব

Super Admin

Super Admin

প্রকাশিত: ১১:৫৮ পিএম, ০৭ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৪:০৭ এএম ২০২৬
ইসলামে ১৭ রমজানের বিশেষ গুরুত্ব
ছবি

ইসলামে ১৭ রমজানের বিশেষ গুরুত্ব

মাহমুদ আহমদ: ইসলামে ১৭ রমজানের গুরুত্ব অতি ব্যাপক। এজন্যই এ দিনের প্রেক্ষাপট ইসলামে বিশেষভাবে সংরক্ষিত। কেননা, হিজরি দ্বিতীয় সালের ১৭ রমজান বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। আর এ যুদ্ধে আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের তার ফেরেশতা বাহিনী দ্বারা সাহায্য করে বিজয় দান করেছিলেন।
ঐতিহাসিক বদর প্রান্তরের যে স্থানটিতে মুসলিম বাহিনী অবস্থান নিয়েছিলেন, সে স্থানটিতে সূর্যের তেজ সরাসারি তাদের মুখের ওপর পতিত হয়। কিন্তু কাফেরদের মুখে দিনের বেলায় সূর্যের আলো পড়ে না। মুসলমানেরা যেখানে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করবেন, সেখানে বালুময় মাটি, যা যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য উপযুক্ত নয়। অপর দিকে কাফেররা যেখানে অবস্থান নিয়েছিল, সেখানে মাটি শক্ত এবং যুদ্ধের জন্য স্থানটি উপযুক্ত। কিন্তু প্রতিকূল দিক ও স্থানে অবস্থান নেয়ার পরও আল্লাহ তাআলা কী ফলাফল দান করলেন?
রমজান মাসের ১৬ তারিখ দিনটি শেষ, মাগরিবের পর তারিখ বদলে গেল, অতঃপর ১৭ রমজান শুরু হলো। সেই রাতে মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার সাথিরা ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন। অপর দিকে কাফেররাও তাদের ক্যাম্পে অবস্থান করছিল। ১৭ রমজানের এই বিশেষ রাতে মহান আল্লাহ তাআলার কাছে সেজদায় পড়ে সাহায্য প্রার্থনা করছেন রাহমাতুললিল আলামিন হজরত মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি কেঁদে কেঁদে বলছিলেন-‘হে দয়াময় আল্লাহ! আগামীকালের নীতিনির্ধারণী যুদ্ধে তোমার সাহায্য আমাদের অতি প্রয়োজন। এ যুদ্ধে আমরা তোমার সাহায্য ছাড়া বিজয় লাভ করতে পারব না। আর আমরা যদি পরাজিত হই তাহলে তোমাকে সেজদা করার কিংবা তোমার নাম ধরে ডাকার লোক এ পৃথিবীতে আর নাও থাকতে পারে। অতপর তুমিই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করো, তুমি কী করবে। কারণ, তুমিই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মালিক। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে প্রাণপণ যুদ্ধ চালিয়ে যাবো। আমরা আমাদের জীবন তোমার পথে উৎসর্গ করলাম। বিনিময়ে তোমার দ্বীনকে আমরা তোমার জমিনে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তুমি আমাদেরকে বিজয় দান করো। আমরা তোমার কাছে সাহায্য চাই।’ (যুরকানি, সিরাতে ইবনে হিশাম)
মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ দোয়া মহান আল্লাহ তাআলা কবুল করলেন। ওই রাতে মরুভূমিতে প্রবল বৃষ্টি হলো। এ বৃষ্টি মুসলমানদের জন্য কল্যাণে পরিণত হল। কারণ, বৃষ্টির কারণে কাফেরদের যুদ্ধের মাঠের শক্ত মাটি কাদায় ভরে পিচ্ছিল হয়ে গেল। অপর দিকে মুসলমানদের বালুময় যুদ্ধের মাঠ শক্ত হয়ে গেল। ঐ রাত্রেই আল্লাহ তাআলা মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শুভ সংবাদ জানিয়ে দিলেন-‘তোমার অমুক অমুক শত্রু মারা যাবে এবং তারা অমুক অমুক জায়গায় মারা পড়বে। ঠিক তা-ই ঘটল।’
যখন যুদ্ধের সময় ঘনিয়ে এলো, তখন মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে স্থানে বসে বসে প্রার্থনা করতেন সেই স্থান থেকে বের হয়ে এলেন এবং বললেন-’শত্রু সেনাদল পর্যুদস্ত হয়ে যাবে এবং পিঠ দেখিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যাবে। আল্লাহ পাক এমনটিই করেছেন।’
মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একনিষ্ঠ এবং প্রাণ প্রিয় সাহাবিরা এ যুদ্ধের আগে এ কসমই খেয়েছিলেন যে-’আমরা আপনার ডানে যুদ্ধ করব, আপনার বামে যুদ্ধ করব, আপনার সামনে যুদ্ধ করব, আপনার পেছনে যুদ্ধ করব এবং হে আল্লাহর রসুল! যে দুশমন আপনার ক্ষতি সাধন করতে এসেছে তারা আপনাকে স্পর্শ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা আমাদের লাশের ওপর দিয়ে যাবে।
হে আল্লাহর রসুল! যুদ্ধ তো একটা মামলি ব্যাপার। এখান থেকে কিছু দূরেই সমুদ্র, আপনি যদি হুকুম দেন যে, তোমরা তোমাদের ঘোড়া নিয়ে সেই সমুদ্রে ঝাঁপ দাও, তাহলে আমরা তৎক্ষণাৎ ঘোড়াসহ সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ব।’ (সিরাতে ইবনে হিশাম)

এ যুদ্ধে আল্লাহ তাআলা মুসলমানদেরকে সাহায্য করেছিলেন তার ফেরেশতা বাহিনী দ্বারা। হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ বুখারির বর্ণনা মতে, ‘যুদ্ধের শেষে সাহাবিদের মধ্য থেকে কেউ কেউ সাক্ষী দিয়েছেন, আমরা সাদা পোশাক পরিহিত কিছু ব্যক্তিকে আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করতে দেখেছি। তাদেরকে আমরা যুদ্ধের আগে কখনো দেখিনি, এমনকি যুদ্ধের পরও দেখিনি।’
শেষে এটাই বলব, মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দোয়ার বরকতেই এ যুদ্ধে মুসলমানরা বিজয় লাভ করেছিলেন। তাই ১৭ রমজান আমাদেরকে এই শিক্ষাই দেয় যে, দোয়ার মাঝে যে শক্তি রয়েছে তা আর কোনো কিছুর মাঝে নেই। মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই দোয়াই আরবের অজ্ঞ মানুষকে ফেরেশতায় রূপান্তর করেছিলেন। 
তাই আসুন, আল্লাহ পাকের দরবারে বিনয়ের সাথে এ দোয়া করি- হে আল্লাহ! হে দয়াময় প্রভু! ধর্মের নামে বিশ্বব্যাপী যে অরাজকতা চলছে তা অবসান করো। মুসলিম উম্মাহকে তুমি বদরের মতো আসমানি সাহায্য দিয়ে হেফাজত কর। পবিত্র রমজানের আজকের এ দিনে একাগ্রচিত্তে তোমার দরবারে নত হয়ে বিশ্বব্যাপী শান্তির জন্য দোয়া করি। সারা বিশ্বকে তোমার রহমতের চাদরে ডেকে রাখ হে প্রভু! আমিন। 
সানা/আপ্র/৭/৩/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

১৩তম রোজার ফজিলত ও দোয়া
০৩ মার্চ ২০২৬

১৩তম রোজার ফজিলত ও দোয়া

মাহে রমজান

রহমত শেষে মাগফিরাত লাভের দশক শুরু
০১ মার্চ ২০২৬

রহমত শেষে মাগফিরাত লাভের দশক শুরু

মাহে রমজান

তারাবি না পড়লে কি রোজা হবে!
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তারাবি না পড়লে কি রোজা হবে!

রমজান মাসে মানুষের ধর্মীয় আবেগ বেড়ে যায়। ভালো উদ্দেশ্য থেকেই অনেক সময় মানুষ অন্যকে ইবাদতে উৎসাহ দিতে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই