মিরপুর মাজারকেন্দ্রিক হামলা ও দেশজুড়ে মব সহিংসতার ঘটনায় জামায়াত, হেফাজত ও এনসিপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী। তিনি দাবি করেছেন, তথাকথিত ‘তৌহিদী জনতার’ আড়ালে এসব সংগঠনের গোপন সম্পৃক্ততা রয়েছে।
সম্প্রতি মাজারে হামলা ও সারাদেশে মব সহিংসতা বন্ধের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশ ও মশাল মিছিলে তিনি এসব কথা বলেন।
মোমিন মেহেদী বলেন, মিরপুর মাজারে ভক্ত-আশেকানদের মাধ্যমে এনসিপি ও এবি পার্টির নেতাসহ ফরহাদ মাজহারকে অপমানের ঘটনা প্রমাণ করেছে, তৌহিদী জনতার ভেতরে গুপ্তভাবে জামায়াত, হেফাজত ও এনসিপির লোকজন সক্রিয় রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, গত ৫৫ বছরে জামায়াত-শিবির ঘরে ঘরে যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থক তৈরি করেছে। ছাত্র আন্দোলনের নামে প্রতারণা করে সেই ছাত্রদেরই কেউ কেউ এখন উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য হয়ে যুদ্ধাপরাধী ও দেশবিরোধীদের পুনর্বাসন করছে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, জাতীয় শ্রমিকধারার আহ্বায়ক বাবুল মিয়া, জাতীয় শিক্ষাধারার সদস্য জুবায়ের এবং গীতিকার রুবেল। সংহতি জানান অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী ও আয়াতুল্লাহ পাটোয়ারি আল কাদেরীয়া।
নেতারা অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর দেশে মাজারে হামলা, ধর্ষণ, খুন ও মব সহিংসতা অতীতের তুলনায় বেড়েছে। তাদের ভাষ্য, ক্ষমতায় আসা একটি গোষ্ঠী গত ১৭ মাস ধরে দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যার কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দুর্নীতি, হত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়নে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
এর আগে ১৫ মে তোপখানা রোডের বিজয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেও মোমিন মেহেদী একই ধরনের অভিযোগ করেন। সেখানে তিনি বিএনপি সরকারেরও সমালোচনা করে বলেন, দেশবিরোধী শক্তির পক্ষে কাজ করার কারণে সরকারের দুই মাসেই সংকট ও রাজনৈতিক নাটক বেড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি তেল সংকটের পাশাপাশি চাকরি ও ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে এবং অর্থনৈতিক অবস্থাও নাজুক হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, মব সহিংসতা, হামলা, মিথ্যা মামলা, খুন-ধর্ষণ এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে শুধু সুশীল ব্যক্তিদের উপদেষ্টা বা মন্ত্রী করেও সরকার শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবে না।
সানা/আপ্র/১৮/৫/২০২৬