গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

মেনু

বরিশালের জনসভায় জামায়াত আমির

যারা দল সামলাতে পারেন না, তারা দেশ চালাবে কীভাবে

জেলা প্রতিনিধি, বরিশাল

জেলা প্রতিনিধি, বরিশাল

প্রকাশিত: ২২:১৭ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৭:০০ এএম ২০২৬
যারা দল সামলাতে পারেন না, তারা দেশ চালাবে কীভাবে
ছবি

শুক্রবার বরিশালে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান -ছবি সংগৃহীত

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা নিজেদের দল সামলাতে পারেন না, তারা দেশ চালাবে কীভাবে? ৫ আগস্টের পর তারা নিরীহ মানুষদের মামলা দিয়ে খাজনাপাতি তুলেছে। মানুষ তাদের প্রতি অতিষ্ঠ।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় সরকারি আরসি কলেজ মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পাকিস্তানের বৈষম্য আচরণের কারণে মুক্তিযুদ্ধের সূত্রপাত, তার মাধ্যমে আমরা পেয়েছি বাংলাদেশ। কিন্তু পৌনে চার বছর আবার শোষণ ও নৈরাজ্য করলো আওয়ামী লীগ। এরপর বার বার ক্ষমতার হাত বদল হলেও জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, ‘এ দেশে সবচেয়ে বড় মজলুম দল জামায়াত। বিচারিক হত্যাকাণ্ডসহ নানা নিপীড়ন হয়েছে। তবুও জনগণের স্বার্থে কথা বলা বন্ধ করিনি। জুলাই বিপ্লবের পরিবর্তনের পর আমরা কোনো নির্দোষ-নিরীহ মানুষকে হয়রানি করিনি। কিন্তু একটি বড় দলের লোক মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা প্রতিষ্ঠায় ১১ দলীয় জোট বদ্ধপরিকর। দুর্নীতির মূলোৎপাটন করবো। আল্লাহ যদি আমাদেরকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ দেয় তাহলে সবাইকে তার ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেবো। পাচার হওয়া টাকা ওদের পেট থেকে বের করে আনা হবে। কেননা অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ হবে বড় চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া হিজলা মেহেন্দিগঞ্জের অবহেলিত জনপদের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেওয়া হবে।’
আইডি হ্যাক বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘মিসাইল ছুড়েছিল আমার দিকে, ফিরে সেটা তাদের কপালেই পড়েছে। সত্য কখনও চাপা থাকে না। যে রাজনীতি চাঁদাবাজ, হত্যাকারী লুণ্ঠনকারী তৈরি করে, ওই রাজনীতি আমরা চাই না। তাই পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। এতদিন পাহারাদারি করেছি দলের, আপনারা সুযোগ দিলে এবার দেশের পাহারাদারি করবো।’
বক্তব্য শেষে বরিশাল-৪ আসনের প্রার্থী আবদুল জব্বারসহ অন্য প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন।

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে আমির শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্য এ কে এম ফখরুদ্দিন খান রাজী, বরিশাল-৪ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল জব্বার, বরিশাল-৩ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বরিশাল-৬ আসনের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার, বরিশাল-২ আসনের প্রার্থী মাস্টার আব্দুল মান্নান, বরিশাল-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা কামরুল ইসলাম খানসহ অন্যরা।

হাদি হত্যার বিচার করা হবে: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি ঝালকাঠির গর্ব। এই জনপদের সাহসী ও প্রতিবাদী সন্তান ছিলেন তিনি। তিনি কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, পুরো জাতির গর্বের সন্তান। হাদি দুইটি স্বপ্ন বুকে ধারণ করেছিল-একটি আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ, আরেকটি বৈষম্যহীন ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লড়াই করতে গিয়ে সে জীবন দিয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা সরকার গঠন করতে পারলে হাদি হত্যার বিচার অবশ্যই করব। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন ‎তিনি বলেন, শহীদ হাদির রক্তের দায় রাষ্ট্রকে নিতেই হবে। বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি দেশে চালু রয়েছে, তা চলতে দেওয়া হবে না। জামায়াতে ইসলামী জোট সরকার গঠন করতে পারলে শহীদের পরিবার শুধু সান্ত্বনা নয়, ন্যায়বিচার পাবে। এটাই আমাদের অঙ্গীকার। তিনি আরো বলেন, দাঁড়িপাল্লা হচ্ছে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক। কিন্তু আজকের বাংলাদেশে ন্যায় নেই, চলছে শুধু বেইনসাফ। গরিব মানুষ আদালতে গিয়ে বিচার পায় না, নিপীড়িত মানুষ তার অধিকার ফিরে পায় না। নির্যাতিত মা-বোনেরা বছরের পর বছর ঘুরেও বিচার পায় না। এই বেইনসাফের রাজনীতি আমরা আর চলতে দেব না। ইনশাআল্লাহ সরকার গঠন করতে পারলে বেইনসাফকে চিরতরে মাটি চাপা দেওয়া হবে। ‎জামায়াত আমির বলেন, এই দেশে আর দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্ব চলবে না। বিগত শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই টাকা জনগণের, দেশের মানুষের হক। এই অর্থ উদ্ধারে আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে লড়াই শুরু করব। প্রয়োজনে মুখ থেকে পেট পর্যন্ত ঢুকিয়ে হলেও দেশের টাকা আদায় করে আনা হবে। দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশ রক্ষার জন্য যারা জীবন বাজি রেখে কাজ করেন, তারা শপথ নেন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, অনেক সময় তারা সম্মান ও ন্যায্য মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হন। আমরা সরকার গঠন করলে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করব, যাতে তারা আরো সাহস ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। নির্বাচন নিয়ে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কেউ যদি পেশিশক্তি ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্র দখল করতে আসে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করতে হবে। ইনসাফের পক্ষে দাঁড়ানো কোনো অপরাধ নয়। মামলা করতে এলে বলবেন-শফিকুর রহমানের নামেই মামলা করুন। ভয় দেখিয়ে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার দিন শেষ।

‎নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে মা-বোনদের ইজ্জতের কোনো গ্যারান্টি নেই। আমরা এমন রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে একজন নারী ঘরে, বাইরে, কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন। এটি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এটি জামায়াতে ইসলামীর রাষ্ট্রদর্শনের অংশ।

যুব সমাজের ভূমিকা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনে যুবকরা যদি রাজপথে না নামতো, তাহলে ২০৪১ সাল পর্যন্ত দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ বিদায় নেওয়ার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। এই দেশের পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি যুবসমাজ। আগামীতেও তাদের জেগে উঠতে হবে। এই আন্দোলন ও লড়াই তাদের নিয়েই এগিয়ে নেওয়া হবে। খুব শিগগিরই এই যুবকদের হাতেই দেশের দায়িত্ব তুলে দিতে চাই। উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো এলাকা কার আসন, কে ক্ষমতায় আছে-এসব বিবেচনায় উন্নয়ন হবে না। মানুষের ন্যায্য চাহিদা যেখানে থাকবে, সেখানেই উন্নয়ন হবে। ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে সব এলাকায় সমান বরাদ্দ দেওয়া হবে। ‎বক্তব্যের শেষে তিনি ঝালকাঠি-১ ও ঝালকাঠি-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

‎জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ডেপুটি চিফ অর্গানাইজার ডা. মাহমুদা আলম মিতু, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, ঝালকাঠি-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এস এম নেয়ামুল করিম, ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থী ড. ফয়জুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি শ্রমিক পার্টির যুগ্ম সমন্বয়ক শেখ জামাল হোসেন এবং ঝালকাঠি এনসিপির আহ্বায়ক মাইনুল ইসলাম মান্না। জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতারা বক্তব্য দেন।
সানা/আপ্র/৬/২/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

এনসিপি কার্যালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা
২২ জুলাই ২০২৬

এনসিপি কার্যালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্...

ভিডিও বিতর্কে বহিষ্কার গাজী নজরুল, এমপি পদ নিয়ে প্রশ্ন
২২ জুলাই ২০২৬

ভিডিও বিতর্কে বহিষ্কার গাজী নজরুল, এমপি পদ নিয়ে প্রশ্ন

এক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের জ...

ছাড়া পেয়েই যে বার্তা দিলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
২২ জুলাই ২০২৬

ছাড়া পেয়েই যে বার্তা দিলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

নিট বা এনইইটি-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে জবাবদিহি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান...

এবার জামায়াত নেতার অডিও ভাইরাল, বিতর্কে নতুন মোড়
২২ জুলাই ২০২৬

এবার জামায়াত নেতার অডিও ভাইরাল, বিতর্কে নতুন মোড়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

জামায়াত এমপির বিয়ে নিয়ে বিতর্ক, বায়োডাটায় নতুন প্রশ্ন

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে তাঁর দাবিকৃত বিয়ের পাঁচ দিন পর স্বাক্ষর করা একটি বায়োডাটায় ওই তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন যে, এমপির দাবি ন্যায়সঙ্গত?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 7 ঘন্টা আগে