গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

মেনু

হোলি আর্টিজান স্মরণ: সন্ত্রাসবিরোধী অঙ্গীকারে একতাবদ্ধ কূটনৈতিক মহল

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২২ পিএম, ০১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০৬:৩৭ এএম ২০২৬
হোলি আর্টিজান স্মরণ: সন্ত্রাসবিরোধী অঙ্গীকারে একতাবদ্ধ কূটনৈতিক মহল
ছবি

রাজধানীর গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে বুধবার রাজধানীর গুলশানে ইতালির রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় -ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর গুলশানে ইতালির রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে ২০১৬ সালের ভয়াবহ হোলি আর্টিজান বেকারি জঙ্গি হামলার দশম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসবাদবিরোধী কঠোর অবস্থান ও বৈশ্বিক সংহতির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সরকারি প্রতিনিধি ও নিহতদের স্বজনরা।

অনুষ্ঠানে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং ইতালি, জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান। উপস্থিত ছিলেন নিহত ফারাজ আয়াজ হোসেনের মা ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান, পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা।

বক্তারা বলেন, হোলি আর্টিজান হামলাকারীরা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘৃণা ও বিভাজন ছড়াতে চেয়েছিল। তবে সেই নৃশংস ঘটনার পর দেশ-বিদেশে সহিংস উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা, রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরো শক্তিশালী হয়েছে।

তারা জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে যেন আর কখনো সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে জন্য রাষ্ট্র, সমাজ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিতভাবে সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, নিহতদের স্মৃতি এবং তাঁদের পরিবারের সাহসিকতা ও সহনশীলতা বাংলাদেশের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি বলেন, সরকার সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং অপরাধীদের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে।

ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, নিহতরা ছিলেন বিভিন্ন দেশের তরুণ, মেধাবী ও ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখা মানুষ। তাঁদের স্মরণ করা মানে শুধু শোক নয়, বরং একটি নিরাপদ ও সহনশীল সমাজ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা। তিনি নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

জাপান, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা বলেন, এই হামলার পর বিশ্ব দেখেছে কীভাবে সন্ত্রাসবাদ মানবতা ও সহাবস্থানের মূল্যবোধকে আঘাত করে। তবে একই সঙ্গে প্রতিরোধ, সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক ঐক্য আরো দৃঢ় হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২০ জন জিম্মি, ২ পুলিশ সদস্য, ২ জন কর্মচারী ও ৫ হামলাকারীসহ মোট ২৯ জন নিহত হন। ওই ঘটনা বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তা কাঠামো ও কৌশলগত অবস্থানকে নতুনভাবে রূপ দেয় এবং পরবর্তী সময়ে কঠোর অভিযান ও বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের পথ খুলে দেয়।

দশ বছর পরও সেই হামলা স্মরণে আন্তর্জাতিক মহল একমত-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা, সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং তরুণ প্রজন্মকে সহনশীলতার পথে গড়ে তোলাই ভবিষ্যৎ প্রতিরোধের মূল ভিত্তি।
সানা/আপ্র/১/৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন আজ
১৬ আগস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন আজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ সফরে যাচ্ছেন। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে জেলা শ...

কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাস সংকট অনেকাংশে কমবে: প্রধানমন্ত্রী
১৬ আগস্ট ২০২৬

কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাস সংকট অনেকাংশে কমবে: প্রধানমন্ত্রী

জ্বালানি সংকটে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে গ্যাসে...

খালেদা জিয়াই বিএনপির অর্জনের মূল কারিগর
১৬ আগস্ট ২০২৬

খালেদা জিয়াই বিএনপির অর্জনের মূল কারিগর

জন্মদিনের দোয়া মাহফিলে মির্জা ফখরুল

১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসেনি, দাবি মিয়ানমারের
১৫ আগস্ট ২০২৬

১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসেনি, দাবি মিয়ানমারের

বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ার প্রচলিত তথ্যকে ‘সঠিক নয়’ বলে দাবি করেছে মিয়ানমার। দেশটি...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

লোডশেডিং নিয়ে বিএনপি সরকারের কড়া সমালোচনা নাহিদ ইসলামের

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিএনপি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এক সমাবেশে তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ২০০১-২০০৬ সময়কার লোডশেডিং সংকটের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন নাহিদ ইসলাম সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে