চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর তালিয়ানে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে কর্মব্যস্ত কূটনৈতিক দিন পার করেছেন সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, জলবায়ু নেতৃত্ব এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার-এই তিনটি লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে তার সফরের কার্যক্রম এগিয়েছে।
সফরের শুরুতে গত সোমবার (২২ জুন) রাতে মালয়েশিয়া সফর শেষে বিশেষ বিমানে তিনি তালিয়ানে পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। লিয়াওনিং প্রদেশের ভাইস গভর্নর বাই ইং, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান। পরে মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাকে হোটেলে নেওয়া হয়।
গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন)সকালে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলোইস সিঙ্গি। এ সময় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নিয়ে আলোচনা হয় এবং ফোরামের পক্ষ থেকে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করা হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
সন্ধ্যায় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জলবায়ু নেতৃত্ব’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন, পদ্মা ও তিস্তা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, পাট শিল্পের মাধ্যমে সবুজ শিল্পের বিকাশ, পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক যানবাহন চালু এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বক্তব্যে তিনি বলেন, জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়; বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার বিনিয়োগ। একই সঙ্গে তিনি জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি তহবিল কার্যকর করা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং প্রশমন ও অভিযোজন কার্যক্রমে সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক সংহতি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরো জোরদার করা প্রয়োজন।
সফরের অংশ হিসেবে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেন তিনি। এতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া, গিনি, মন্টিনিগ্রো ও কাজাখস্তানের সরকারপ্রধানরাও উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার (২৪ জুন) তালিয়ানে আরো কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর এদিন দুপুরে ট্রেনে তিনি বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।
এর আগে কুয়ালালামপুর থেকে মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি চীনের উদ্দেশে রওনা দেন। তার এই সফরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সানা/আপ্র/২৪/৬/২০২৬